বিকেলে বাবাকে দাফন, রাতে এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকন দাড়িয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
ইকনের পড়াশোনার খরচ বহন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তার ব্যক্তিগত সহকারী ফারহান ইশতিয়াক ফোন করে ইকনকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
ইকন বাগেরহাটের খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতে শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন তিনি।
সম্প্রতি বাবার মৃত্যুর পরও সংসারের প্রয়োজন মেটাতে রাতেই কর্মস্থলে ফিরতে হয় ইকনকে। সারারাত দায়িত্ব পালন শেষে সকালে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।
শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ফারহান ইশতিয়াক জানান, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার সময় ইকনকে যেন চাকরি করতে না হয়, সে জন্য দ্রুত তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা শেষে ইকনের উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যৎ পড়াশোনার বিষয়েও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইকনের সংগ্রামী জীবনের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২১ জুলাই ভোরে ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জানাজা শেষে তার মরদেহ গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের বড় ছেলে ইমন একসময় বাবার সঙ্গে কাজ করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না।
এরপর থেকেই মা ও ভাইসহ পরিবারের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন। বর্তমানে তারা বাগেরহাটে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তর থেকে ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইকন বলেন, তাকে আর্থিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ পড়াশোনায় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান বলেও জানিয়েছেন।