মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ০১ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ৮৫ দশমিক ১৬ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়।
ব্রেন্টের এই মূল্য গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার এবং তেল সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কাই দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর দাবি করেছে তেহরান। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইরান আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্দেশনা অমান্য করে চলাচলের চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলোর যাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। সেখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সৌদি তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের হুমকিও বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। কয়েকটি সৌদি ট্যাংকার পথ পরিবর্তন করায় পরিবহন সময় ও খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে তেলের দাম নতুন করে বাড়তে পারে। তবে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর এলে বাজারে মূল্য কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সূত্র: এএফপি