জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিননেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে নিউইয়র্ক সিটিমেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামদানির প্রশাসন এ বিষয়ে শহরের আইনবিভাগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে(এনওয়াইপিডি) নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার মতো আইনি ক্ষমতা তার রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন মেয়র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমসের পডকাস্ট “দ্য ইন্টারভিউ”-এরউপস্থাপক লুলু গার্সিয়া-নাভারোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মামদানি এ বিষয়ে নিজের অবস্থানজানান।
সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে।” তিনিআরও বলেন, “তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অভিযোগ এনেছে।”
মামদানি বলেন, নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক মানুষ একই মত পোষণ করেন। তবেতিনি স্পষ্ট করেন, নিউইয়র্কের আইন অনুযায়ী যতটুকু পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তারবাইরে যাওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “নিউইয়র্কের আইন আমাকে যতটুকু করার অনুমতি দেবে, আমরা ততটুকুই করব। তবে আমরা নিজেদের মতো করে নতুন আইন তৈরি করব না।”
এদিকে নেতানিয়াহু মামদানির বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারেতিনি অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসের প্রতি সমর্থন দেখাচ্ছেন। নেতানিয়াহু বলেন, হামাসইহুদিদের বিরুদ্ধে হত্যার আহ্বান জানায় এবং ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের সঙ্গে থাকাএকটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
নিউইয়র্কে ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল অফির আকুনিসও মামদানির বক্তব্যের বিরোধিতাকরেছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানানোর কোনো আইনি ক্ষমতামেয়রের নেই।
এর আগে ২০২৫ সালে মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও মামদানি জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিকঅপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কেএলে তাকে আটক করার চেষ্টা করবেন।
তবে ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, এসব মন্তব্য নেতানিয়াহুর জাতিসংঘসাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান ঠেকাতে পারবে না। তিনি জানান, নেতানিয়াহুনিউইয়র্কে আসবেন এবং জাতিসংঘের মঞ্চে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরবেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ