ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে নিজের মালপত্রে পিস্তল ও তাজা গুলি দেখে রীতিমতো চমকে যান বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ত দে ওয়েভার। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত সম্মেলন শেষে জোটের নেতাদের এমনই অদ্ভুত বিদায়ী উপহার দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান।
উপহারটি ছিল তুরস্কে তৈরি গুমুশায় .৩৫৭ ম্যাগনাম রিভলবার। কাঠের দৃষ্টিনন্দন বাক্সে রাখা ওই পিস্তলের সঙ্গে ছিল তাজা গুলিও। প্রতিটি পিস্তলে সংশ্লিষ্ট নেতার নাম খোদাই করা ছিল বলে জানা গেছে।
মূলত তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই এরদোয়ান এই অভিনব কৌশল বেছে নেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি তুরস্কের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নৌসেদার কার্যালয় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বাক্সের ওপর তুরস্কের পতাকা ও ন্যাটোর লোগো রয়েছে। সেখানে তুর্কি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা ছিল, গুমুশায় হলো তুরস্কে তৈরি প্রথম জাতীয় রিভলবার ধরনের হ্যান্ডগান।
তবে এই রাষ্ট্রীয় উপহার নিয়ে বিভিন্ন দেশে তৈরি হয়েছে ভিন্ন পরিস্থিতি। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী পিস্তলটি বিমানবন্দর পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে জমা দিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের উপহার শুল্ক ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীদের পিস্তল নিজ নিজ দূতাবাসে নেওয়া হয়েছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির পিস্তলটি রাষ্ট্রীয় উপহারের সঙ্গে সরকারি কার্যালয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী পিস্তলটি জাদুঘরে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
জেনেভাভিত্তিক স্মল আর্মস সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ক্ষুদ্রাস্ত্র রফতানি করে তুরস্ক বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির পর তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। সেই সাফল্যের প্রতীক হিসেবেই ন্যাটো নেতাদের হাতে বিরল রিভলবার তুলে দিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন এরদোয়ান।
সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন
মন্তব্যসমূহ