৪৮ দলের মহাযজ্ঞ পেরিয়ে বিশ্বকাপ এখন নেমে এসেছে শেষ আটের লড়াইয়ে। এক দিনের বিরতির পর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল।
তবে শেষ আটের লড়াইয়ে নামার আগে বড় দুশ্চিন্তায় আছে কয়েকটি দল। কারণ, অন্তত ১৮ জন ফুটবলার আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই সেমিফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন, যদি তাঁদের দল শেষ চারে ওঠে।
ঝুঁকিতে থাকা দলগুলোর মধ্যে আছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো ফেভারিটরাও। তবে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ইংল্যান্ড ও মরক্কো। দুটি দলেরই চারজন করে ফুটবলার নকআউট পর্বে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন।
ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস ও মার্ক গেয়ি আছেন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে। মরক্কোর ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল ও বিলাল এল খানুসকেও কোয়ার্টার ফাইনালে সতর্ক থাকতে হবে।
এ ছাড়া ফ্রান্সের মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে ও ব্রাডলি বারকোলা এবং সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহাইমও একই ঝুঁকিতে আছেন। আর্জেন্টিনার গঞ্জালো মন্টিয়েল, স্পেনের ফেররান তোরেস, বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেচেলে এবং নরওয়ের অ্যান্তোনিও নুসাও আরেক হলুদ কার্ড দেখলে সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে হলুদ কার্ডের নিয়মে পরিবর্তন আনে ফিফা। ৪৮ দলের এই আসরে নকআউট পর্বে একটি বাড়তি রাউন্ড যুক্ত হওয়ায় খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কমাতে গ্রুপ পর্ব শেষে হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে দেওয়া হয়। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, একক হলুদ কার্ড গ্রুপ পর্ব শেষে এবং আবার কোয়ার্টার ফাইনালের পর বাতিল হবে।
তবে নকআউট পর্বে ভিন্ন দুই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকতে হবে। তাই শেষ ৩২ কিংবা শেষ ষোলোর ম্যাচে যারা হলুদ কার্ড দেখেছেন, তারা কোয়ার্টার ফাইনালে আবার কার্ড দেখলে সেমিফাইনাল মিস করবেন। এমএলএস সকারের ব্যাখ্যাতেও বলা হয়েছে, গ্রুপ পর্বের পর হলুদ কার্ড রিসেট হয় এবং কোয়ার্টার ফাইনালের পর আবার রিসেট হয়।
কোয়ার্টার ফাইনালের পর কার্ডের হিসাব নতুন করে শুরু হওয়ায় শুধু হলুদ কার্ডের কারণে কোনো ফুটবলার ফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন না। তবে সেমিফাইনালে সরাসরি লাল কার্ড পেলে ফাইনালে খেলা যাবে না।
সূচি অনুযায়ী, ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৪ ও ১৫ জুলাই সেমিফাইনাল, ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং ১৯ জুলাই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।
নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে থাকা ১৮ ফুটবলার:
ইংল্যান্ড: জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি
মরক্কো: ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস
ফ্রান্স: মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা
সুইজারল্যান্ড: গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া, মিরো মুহাইম
আর্জেন্টিনা: গঞ্জালো মন্টিয়েল
স্পেন: ফেররান তোরেস
বেলজিয়াম: ব্র্যান্ডন মেচেলে
নরওয়ে: অ্যান্তোনিও নুসা
সূত্র: ফিফা
মন্তব্যসমূহ