হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী, আইআরজিসির বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় দুটি জাহাজই উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ওমানের লিমাহ উপকূলের পূর্বে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে আগুনে পুড়ে যায়।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণমুখী জাহাজটি লিমাহ থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল, অর্থাৎ প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল। এ সময় জাহাজটির বাম পাশে আঘাত লাগে এবং আগুন ধরে যায়। তবে এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা জাহাজ এবং ইউকেএমটিওর প্রতিবেদনের ট্যাংকারটি একই কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহান্তে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সামুদ্রিক রেডিও বার্তায় জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানায়, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজগুলোর একটি ছিল ‘আল রেকাইয়াত’। এটি কাতারের নাকিলাত পরিচালিত একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ। জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষের ওপরের অংশে আঘাত লাগে এবং সেখানে আগুন ধরে যায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের উদ্ধৃত এক রেডিও বার্তায় বলা হয়, ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যায় এবং ধোঁয়ায় ভরে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পুরো মাত্রা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তবে জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন।
হামলার সময় জাহাজটি ওমান উপসাগরে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থান করছিল। এ ঘটনায় নাকিলাত, কাতারএনার্জি কিংবা কাতারের আন্তর্জাতিক মিডিয়া অফিস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি এখন বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি খাতের নজরের কেন্দ্রে রয়েছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
মন্তব্যসমূহ