ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

লেবার রুম না থাকলে ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি

লেবার রুম না থাকলে ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে আগামী শনিবারের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম থাকতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের কল্যাণের চেয়ে অর্থ উপার্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় স্বাস্থ্যসেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে। গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞ ধাত্রীর সহায়তায় নিরাপদে সন্তান প্রসবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু এখন স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে।

তার অভিযোগ, গর্ভাবস্থার শুরু থেকে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে কিছু দালালচক্র ও চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারকে নানা জটিলতার ভয় দেখায়। মা কিংবা সন্তানের জীবনের ঝুঁকির কথা বলে অনেক পরিবারকে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা মানুষের কাছে বড় ভরসার জায়গা। তাই চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতা আরও শক্তিশালীভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুর জীবনের শুরু থেকেই যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। অপুষ্টি, অল্প বয়সে বিয়ে এবং মায়েদের দুর্বল স্বাস্থ্য শিশুদের নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। একই সঙ্গে অনেক মায়ের শরীরেও প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। ফলে নবজাতকের পুষ্টি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষ মিডওয়াইফদের ভূমিকার ওপর জোর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় মিডওয়াইফের সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এটি শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়, বরং জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের বড় অংশ মিডওয়াইফ হিসেবে কাজ করবেন, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে পরামর্শ পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হবেন।

তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে মানুষকে বাধ্য করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ছাড়া সুস্থ, সমৃদ্ধ ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৪০টি স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তার অভিজ্ঞতার পর একজন ধাত্রী নিবন্ধনের যোগ্যতা অর্জন করেন। প্রতি বছর মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ধাত্রী দক্ষ হয়ে ওঠেন। তবে স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ না থাকায় তাদের বড় অংশ পেশা থেকে ঝরে পড়েন।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বছরে মাত্র প্রায় ৫০০ ধাত্রী কাজের সুযোগ পান। বাকিদের অনেকেই সাধারণ নার্স হিসেবে কাজ করেন। এতে প্রসবকালীন সেবায় দক্ষতার ঘাটতি তৈরি হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির সভাপতি রোজিনা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হাসনা আখতার এবং বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আখতারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : শিশু স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


লেবার রুম না থাকলে ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে আগামী শনিবারের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম থাকতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের কল্যাণের চেয়ে অর্থ উপার্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় স্বাস্থ্যসেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে। গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞ ধাত্রীর সহায়তায় নিরাপদে সন্তান প্রসবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু এখন স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে।

তার অভিযোগ, গর্ভাবস্থার শুরু থেকে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে কিছু দালালচক্র ও চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারকে নানা জটিলতার ভয় দেখায়। মা কিংবা সন্তানের জীবনের ঝুঁকির কথা বলে অনেক পরিবারকে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা মানুষের কাছে বড় ভরসার জায়গা। তাই চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতা আরও শক্তিশালীভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুর জীবনের শুরু থেকেই যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। অপুষ্টি, অল্প বয়সে বিয়ে এবং মায়েদের দুর্বল স্বাস্থ্য শিশুদের নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। একই সঙ্গে অনেক মায়ের শরীরেও প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। ফলে নবজাতকের পুষ্টি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষ মিডওয়াইফদের ভূমিকার ওপর জোর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় মিডওয়াইফের সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এটি শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়, বরং জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের বড় অংশ মিডওয়াইফ হিসেবে কাজ করবেন, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে পরামর্শ পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হবেন।

তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে মানুষকে বাধ্য করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ছাড়া সুস্থ, সমৃদ্ধ ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৪০টি স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তার অভিজ্ঞতার পর একজন ধাত্রী নিবন্ধনের যোগ্যতা অর্জন করেন। প্রতি বছর মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ধাত্রী দক্ষ হয়ে ওঠেন। তবে স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ না থাকায় তাদের বড় অংশ পেশা থেকে ঝরে পড়েন।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বছরে মাত্র প্রায় ৫০০ ধাত্রী কাজের সুযোগ পান। বাকিদের অনেকেই সাধারণ নার্স হিসেবে কাজ করেন। এতে প্রসবকালীন সেবায় দক্ষতার ঘাটতি তৈরি হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির সভাপতি রোজিনা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হাসনা আখতার এবং বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আখতারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ