সশস্ত্র নকশালবাদের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের লড়াইয়ে বিজয়ের দাবি করে ভারতের প্রথম ‘নকশালমুক্ত দীপাবলি’ উদযাপনের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে সশস্ত্র নকশালদের পরাজিত করা গেলেও তাদের আদর্শিক প্রভাব এখনো নির্মূল হয়নি বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘দিমাগি নকশাল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) ভারতের ছত্তিশগড়ের বস্তারে নকশালবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপনকালে এসব কথা বলেন মোদি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের দীপাবলি ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কয়েক দশকের সংগ্রামের পর মাওবাদী সন্ত্রাস ও নকশালবাদের বিরুদ্ধে সাফল্য অর্জনের পর এবারই প্রথম দেশজুড়ে নকশালমুক্ত দীপাবলি উদযাপিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, ভারতের প্রতিটি জেলা এখন নকশালমুক্ত এবং কোটি কোটি মানুষ দীর্ঘদিনের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
তবে এই সাফল্যকে চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। মোদির ভাষ্য, সশস্ত্র নকশালদের পরাজয়ের পরও তাদের আদর্শিক অনুসারীরা বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তারা মানুষকে সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রভাবিত করছে। এ ধরনের মতাদর্শের অনুসারীদের চিহ্নিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) সদস্যদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি তুলে ধরেন মোদি। তিনি জানান, বাহিনীর ৪৭ বছরের ইতিহাসে গত এক বছরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সদস্য শহিদ হননি। মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর এটিকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি।
বস্তার অঞ্চলে মাওবাদী তৎপরতার অতীত পরিস্থিতি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে বস্তারের কাছাকাছি দন্তেওয়াড়ায় নকশাল হামলায় সিআরপিএফের ৬৬ সদস্য এবং ৪১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর মাওবাদীদের তুলনায় নিরাপত্তা বাহিনীর বেশি সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদির মতে, বর্তমান সরকারের নীতি ও কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। তবে সশস্ত্র নকশাল আন্দোলনের অবসানকে শুধু একটি বিজয় হিসেবে না দেখে দীর্ঘদিনের জাতীয় আকাঙ্ক্ষা পূরণের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটির ব্যবহার নিয়েও ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। গত বছর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রথমবারের মতো শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন মোদি। এরপর থেকে এ শব্দের প্রয়োগ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও অধিকারকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ তৈরি হয়।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং কংগ্রেস জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং দলটির সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ করেন। বেঙ্গালুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সিজেপির অভিজিৎ দীপকে ও আশুতোষ রাঙ্কার বিদেশি অর্থ পাওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের কাছে প্রমাণ প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানানো হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আবারও তীব্র হয়েছে।
একসময় ছত্তিশগড়ের বস্তার ছিল ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি। তবে সরকারের ধারাবাহিক নিরাপত্তা অভিযান, ধরপাকড় এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে অঞ্চলটির পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
সূত্র: এনডিটিভি














মন্তব্যসমূহ