সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন গাইবান্ধার সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ না করা পর্যন্ত অভিনেত্রীকে নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তাঁরা। এ নিয়ে জেলায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গাইবান্ধা শহরের জেলা পুলিশ লাইনস রোডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।
প্রতিবাদের সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই দিন পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজুর সঙ্গে পরীমনি দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের দাবি, পরীমনি ওই প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তাঁকে গালিগালাজ করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবাদকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিউল ইসলাম রাজু শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন এবং তাঁর একটি হাত অকেজো। তাঁরা পরীমনির তোলা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ কিংবা তা প্রত্যাখ্যানের পক্ষে স্বাধীন তদন্তের কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
গাইবান্ধায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মান ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দেন তাঁরা।
এ সময় সাংবাদিকরা জানান, পরীমনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ না করা পর্যন্ত তাঁর কোনো সংবাদ প্রকাশ করবেন না। পাশাপাশি অভিনেত্রীকে সার্বিকভাবে বয়কট এবং প্রয়োজনে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তাঁরা।
গণউন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত একটি মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠান শেষে প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রায় অর্ধশত সাংবাদিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।
কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতা শেখ হাবিবুর রহমান, সিদ্দিক আলম দয়াল ও ফারুক হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সাংবাদিকদের প্রতিবাদের পর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠেয় ‘চট্টগ্রাম ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড’-এর অতিথি তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে পরীমনিকে।
আগামী ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর ও পার্টনার খালেদ সুমন জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের প্রতিবাদ ও অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পরীমনিকে অতিথি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকরা।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক বিতর্কের আগেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে পরীমনির সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। তবে পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিনেত্রীকে বাদ দিয়ে নতুন পোস্টারও প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুর মামলাকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতার মধ্যেও রয়েছেন পরীমনি।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি উপস্থিত হননি। পরে আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিপুলসংখ্যক দেহরক্ষী নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যান এই অভিনেত্রী। সেদিনই সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
এর আগেও আদালতকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় এসেছেন পরীমনি। ২০২১ সালে মাদক মামলায় কারামুক্তির সময় হাতের তালুতে ‘ডোন্ট লাভ মি বিচ’ লেখা প্রদর্শন করেছিলেন তিনি। সে সময় ক্যামেরার সামনে তাঁর কিছু অঙ্গভঙ্গি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়।
একই মামলার রিমান্ড শুনানিতে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার এবং পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল।
এবার সাংবাদিকের সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন পরীমনি। গাইবান্ধার সাংবাদিকদের বয়কটের ঘোষণার পাশাপাশি চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকা থেকেও বাদ পড়েছেন তিনি।
তবে সাংবাদিকদের সর্বশেষ বয়কটের ঘোষণা এবং অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরীমনির কোনো প্রতিক্রিয়া প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।














মন্তব্যসমূহ