ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পৃথক কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কদমতলী মোড় ও পুরাতন বাজার এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপনের নেতৃত্বে স্থানীয় আড়াইবাড়ি দরবার শরীফের সম্মুখভাগ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের হয়। উপজেলা বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ওই মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি কদমতলী মোড় এলাকায় পৌঁছে শেষ হয় এবং সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে একই স্থানে উপস্থিত হন।
দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের ফলে সেখানে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা মুহূর্তেই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর চড়াও হয় এবং বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুরো কদমতলী ও সংলগ্ন বাজার এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মো. রাশেদ জানান, বিএনপির দুটি গ্রুপ অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছামিউল ইসলাম বলেন, সংহতি দিবস পালনে উভয় পক্ষেরই কর্মসূচি ছিল এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবে তা পালনের কথা জানিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।














মন্তব্যসমূহ