সমাবেশে রাশেদ খাঁন বলেন, এই ভূখণ্ডে যদি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্ম না হতো, তবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটত না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে যখন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, ঠিক তখনই একাত্তর ও চব্বিশের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে হুঁশিয়ারি দিয়ে ঘোষণা করেন, যারা পদে পদে এই সার্বভৌম রাষ্ট্র নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, সেই ৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী কিংবা ২৪-এর ফ্যাসিবাদের দোসর আওয়ামী লীগ—কারও চক্রান্তই এবার সফল হতে দেওয়া হবে না।
বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে ইতিহাসকে সংকীর্ণ করে কেবল ৭ই মার্চকে সামনে আনা হলেও বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে ৭ই নভেম্বরের গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বাধাহীন পরিবেশে এই তাৎপর্যপূর্ণ দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। তিনি ঐতিহাসিক পটভূমি ব্যাখ্যা করে জানান, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল মূলত ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান। শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী অস্থিতিশীলতার সুযোগে ভারত আরেকটি সামরিক ক্যু ঘটিয়ে বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল, যা ৩ নভেম্বরের ঘটনায় সাময়িক স্পষ্ট হলেও ৭ নভেম্বর দেশের মুক্তিকামী জনগণ ও দেশপ্রেমিক সিপাহিরা শহীদ জিয়াকে জাতীয় নেতৃত্বে বসিয়ে সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেয়। জিয়াউর রহমান কোনো জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করেননি, বরং জাতীয় আস্থার একমাত্র প্রতীক হিসেবেই জনগণ তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন চত্বরে আয়োজিত এই সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপ্পুসহ স্থানীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এর আগে সকাল ১১টার দিকে শহরের ঐতিহ্যবাহী ওয়াজির আলী স্কুল মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। কয়েক হাজার নেতাকর্মী নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে ঢাকঢোল বাজিয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে এসে মিলিত হন।














মন্তব্যসমূহ