যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় ও বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল এবং বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে পেন্টাগনে তীব্র অসন্তোষ ও রাজনৈতিক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে এই যুদ্ধ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের অভ্যন্তর থেকেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এমনকি প্রতিনিধি পরিষদ থেকে বিদায় নিতে যাওয়া এক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা (টমাস ম্যাসি) আগামী সপ্তাহেই হেগসেথের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিশংসন প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি আয়োজনের প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন।
তবে নিজের অবস্থানে পুরোপুরি অনড় রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের সামরিক সিদ্ধান্ত ও নীতিগত পদক্ষেপের পক্ষে দৃঢ় সাফাই গেয়েছেন এবং অভিশংসনের অপচেষ্টাকে রাজনৈতিক নাটক বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। হেগসেথ বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, তারা আমাকে আক্রমণ করছে। তারা আমাদের আক্রমণ করছে কারণ আমরা দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছি। তাদের এসব তৎপরতায় কোনো কাজ হবে না; আমরা কোনো অবস্থাতেই পিছু হটব না।’
অন্যদিকে, ২০২৮ সালের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে মার্কো রুবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়তে পারেন—এমন জোরালো জল্পনাও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে সরাসরি নাকচ করেছেন তিনি নিজে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রুবিও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করাই সবসময় তাঁর মূল পরিকল্পনা ছিল এবং এখনও তা অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে যে কাজটি করছি তা অত্যন্ত ভালোবাসার সাথে করছি। আর যখন কেউ গুজব ছড়ায় যে আমি পদ ছাড়তে যাচ্ছি, তখন আমি শুধু হাসি এবং বলি, কোন পদটি ছাড়ব?’
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর রুবিওর পদত্যাগের খবরকে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একযোগে ‘ভুয়া খবর’ (Fake News) হিসেবে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে কূটনীতিক ও বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর অবস্থান দৃঢ় ও স্পষ্ট হলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তুলনামূলক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল, জেনারেলদের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং কংগ্রেসের অভ্যন্তরে অভিশংসন প্রক্রিয়ার উদ্যোগের কারণে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অবস্থান আগামী দিনগুলোতে প্রবল রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপের মুখে থাকবে।
সূত্র: বিবিসি
মন্তব্যসমূহ