ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং সমাজে বিভাজন তৈরির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের ধর্ম। এই ধর্মের সঠিক প্রচার ও চর্চা সমাজ এবং দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
সংগঠনটির সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বঙ্গভবনে যায়।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ধর্মকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধেও সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত আলেমরা ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছেন।
অন্যায়, বিভাজন ও ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের পীর-মাশায়েখ ও আলেম-ওলামারা দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের প্রসার এবং মানুষের মধ্যে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন।
বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তাঁদের অবদান রয়েছে।
এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্য শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির মতে, সঠিকভাবে ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ ও প্রচার করা হলে তা মানুষের নৈতিক উন্নয়ন এবং সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ঐক্য ও সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা গেলে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি।
বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আলেম-ওলামাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের প্রতিনিধিরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন।
এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি।
পাশাপাশি দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
তবে আলোচনায় উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য জানানো হয়নি।
সাক্ষাৎকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের উদ্যোগে আয়োজিতব্য শিক্ষক-শিক্ষিকা সম্মেলনে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা কবি রূহুল আমীন খান, মহাসচিব মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী, উপদেষ্টা মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী এবং সহসভাপতি আলহাজ মাওলানা সৈয়দ আবু নোমান মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
এ ছাড়া প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেসসচিব উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ