ইয়েমেনে সশস্ত্র হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৭২টি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী। এসব সমন্বিত অভিযানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্তত ৫০০ জন যোদ্ধা ও ফিল্ড কমান্ডারকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি করেছে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে হুথিদের ১৬৯টি সামরিক যান, ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও রসদ সরঞ্জাম ধ্বংস বা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে ‘নিষ্ক্রিয়’ হওয়া বিদ্রোহীদের মধ্যে নিহতের সংখ্যা কত এবং আহতের সংখ্যা কত, তা আলাদা করে প্রকাশ করেননি তিনি।
আল-নুজাইলি জানান, রাজধানী সানা পুনরুদ্ধার এবং হুথিদের দখলে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মুক্ত করতে গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ (Operation Dawn of Yemen)-এর অংশ হিসেবে এসব অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মূলত হুথিদের সামরিক অবস্থান, রিইনফোর্সমেন্ট বা সৈন্য সরবরাহের বহর, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগ পথ লক্ষ্য করে বিমান হামলা ও নিখুঁত আর্টিলারি গোলাবর্ষণ চালানো হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব ধারাবাহিক অভিযানের ফলে উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ এলাকায় সরকারি বাহিনীর পদাতিক অগ্রগতি সহজ হয়েছে এবং বিদ্রোহীরা পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। এর আগে শনিবার আল-জাওফে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হুয়াইশিয়ান পর্বতমালা’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে সেনাবাহিনী। এলাকাটিকে হুথিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত প্রাদেশিক রাজধানী আল-হাজমের প্রধান প্রতিরক্ষাব্যূহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বর্তমানে আল-জাওফ ছাড়াও মারিব, আল-বায়দা, লাহিজ এবং তাইজ প্রদেশে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। তাইজ প্রদেশে সরকারি সেনাদের সমর্থনে লড়াই করছে তাদের মিত্র ‘পপুলার রেজিস্ট্যান্স’ যোদ্ধারা। সেখানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ভারি কামানের মুহুর্মুহু ব্যবহার চলছে। তবে সেখানে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেছে সামরিক বাহিনী। এর আগে তাইজের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-মিসরাখ জেলায় হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে তাদের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানানো হয়।
এদিকে সংঘাতের মাঝে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম তাইজে একটি বেসামরিক বাড়ি লক্ষ্য করে হুথিদের চালানো পৃথক এক ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক কিশোরী নিহত হয়েছেন এবং আরও এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ইয়েমেনে যে যুদ্ধবিরতি ও আপেক্ষিক শান্তি বজায় ছিল, গত জুলাইয়ে নতুন করে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এই দফায় হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং ইতিমধ্যে আড়াই লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন, যা দেশটির সামগ্রিক মানবিক সংকটকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ