জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিপুল অঙ্কের অর্থপাচারের (মানিলন্ডারিং) অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে শ্যোন অ্যারেস্ট বা গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) দুদকের আনুষ্ঠানিক আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি অসদুপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ মোট ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে নিজ দখলে রেখেছেন। তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও সংশ্লিষ্টতা মিলেছে।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ পায়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত মোট ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা জমা এবং ৩৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সর্বমোট ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন সম্পন্ন করে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মতো মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, সুনির্দিষ্ট এসব আর্থিক অপরাধ ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
মন্তব্যসমূহ