সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করার পরও একটি চিহ্নিত মহল দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এসব কথা জানান।
মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের সূচনা হয়েছিল, যা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক মুক্তির দ্বার উন্মোচন করে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলেও এ খাতের বিকাশ এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দুই ঈদে সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধের নজির স্থাপন করেছে বর্তমান প্রশাসন।
তিনি জানান, লাখ লাখ শ্রমিকের জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতির কথা চিন্তা করে শ্রমিকের প্রাপ্য অধিকার যেমন দেখতে হবে, তেমনি শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বিষয়টিও সমন্বয় করতে হবে। সে লক্ষ্যেই মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ সদস্যদের নিয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবে।
তবে এই ইতিবাচক অগ্রগতির মাঝেও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে মাহ্দী আমিন লেখেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি শ্রমিকদের আন্দোলনের ভেতরে অনুপ্রবেশ করে নাশকতার মাধ্যমে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কারখানায় আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়ি ও বক্সে ভাঙচুরের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থের চরম পরিপন্থী। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বন্ধ হয়ে গেলে দিনশেষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরাই; দেশে বেকারত্ব বাড়বে এবং জাতীয় রপ্তানি খাত পঙ্গু হবে। তাই নাশকতায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে তিনি সাধারণ শ্রমিকদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক উসকানি, গুজব কিংবা বিভ্রান্তিতে পা না দিয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
মন্তব্যসমূহ