জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য আমির হোসেন আমুসহ সাবেক সাত মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত অপর ছয় আসামি হলেন—আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানানো হয়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের প্রসিকিউটর প্যানেল আইনগত যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করে এটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে পেশ করে।
দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন এসব শীর্ষ নেতা। তারা ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের একাধিক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে অংশ নিয়ে আন্দোলন বলপ্রয়োগে দমন, কারফিউ জারি এবং সেই কারফিউর সুযোগ নিয়ে দেশব্যাপী সাধারণ ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যার পরিকল্পনা ও উসকানি দেওয়ার সরাসরি সিদ্ধান্তে যুক্ত ছিলেন। এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের আওতায় স্পষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ