ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পৃথক ড্রোন হামলায় চার বছর বয়সি এক শিশু এবং নিয়মিত দায়িত্বে নিয়োজিত পাঁচ ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস ও উত্তরাঞ্চলীয় গাজা সিটির পৃথক এলাকায় এসব প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে বলে হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের পশ্চিমে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে। এতে সেখানে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তায় টহলরত অবস্থায় থাকা পাঁচ ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ফিলিস্তিনের স্বরাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে একটি ‘বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত বেসামরিক দায়িত্ব পালন করার সময়ই তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে তারা উল্লেখ করে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৫ জন পুলিশ ও বেসামরিক নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ওই এলাকায় একজন ‘সন্ত্রাসীকে’ নিশানা করে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, এর প্রায় এক ঘণ্টা পর উত্তর গাজার গাজা সিটির কেন্দ্রস্থল রিমাল এলাকার রেভল্যুশন স্ট্রিটে হেঁটে যাওয়ার সময় সাধারণ পথচারীদের ওপর আরেকটি পৃথক ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে চার বছর বয়সি এক শিশু ও তার পিতাসহ অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। ওই হামলায় তাজ মল সংলগ্ন একটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া পূর্ববর্তী এক হামলায় চিকিৎসাধীন থাকা আরেক আহত ব্যক্তি রোববার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা বলা হলেও বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে নিত্যনতুন হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায় নিমজ্জিত।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ