হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন পারস্য উপসাগরে কাতার থেকে পাকিস্তানগামী এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন অর্থনৈতিক বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের জন্য গ্যাস পরিবহনকারী কাতারের মালিকানাধীন ‘আল মায়েদা’ নামের ওই ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য আগেই তেহরানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র বা অনুমতি নিয়েছিল; তা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে জাহাজটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) আরব উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ আক্রমণের ঘটনা ঘটে। হামলার পর মারাত্মক কোনো কাঠামোগত বিপর্যয় না ঘটলেও উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ট্যাংকারটি তাৎক্ষণিকভাবে পথ পরিবর্তন করে বিপরীত দিকে ফিরে যায়। পরে শনিবার কাতারের রাষ্ট্রীয় গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের পরিচালিত জাহাজটি হামলার শিকার হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাতার থেকে গ্যাস বোঝাই করে পাকিস্তানের দিকে আসা এই জাহাজটির মালিকানা কাতারের হলেও এটি মূলত মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী হিসেবে চলাচল করছিল। জাহাজে থাকা নাবিক ও কর্মীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারতের নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানান, ওই ট্যাংকারে ৬ জন ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ২৫ জন ক্রু দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তারা সবাই সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন।
ব্লুমবার্গ তাদের বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে, হরমুজ সংকটে পাকিস্তান শুরু থেকেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ইরানের সঙ্গে বিশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিত করে আসছিল। এমনকি গত মাসেও কাতারের একাধিক গ্যাস ট্যাংকার তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নিরাপদে ওমান উপসাগর অতিক্রম করে পাকিস্তানে পৌঁছায়। এমন কূটনৈতিক ও সামরিক সমঝোতা বহাল থাকা সত্ত্বেও কেন হঠাৎ করে পাকিস্তানগামী এই জাহাজে হামলা চালানো হলো, তা নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা মহলে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এ অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান বা পাকিস্তানের কোনো সরকারি বা জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
মন্তব্যসমূহ