দেশে দারিদ্র্য কমাতে ভূমিকা রাখবে ফ্যামিলি কার্ড: তিতুমীর
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশ কমবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ‘ইএসজি প্লাটফর্ম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়ে অতীত সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘অতীত সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। অন্যদিকে, বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ফলে দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশ কমবে।’অনুষ্ঠানে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত পরিস্থিতিতে দেখা গেছে, শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়নি। প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কর্মসংস্থান, শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। যার কারণে ২০০৮-০৯ সালের পর থেকে বিভিন্ন আন্দোলনে তরুণ সমাজ ও নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।’দেশের অর্থনীতিতে চলমান চাপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, গত আট মাসে সরকারকে অতিরিক্ত ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে।এ বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে। যার কারণে গত ৮ মাসে অতিরিক্ত ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে।’বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে আগামী দিনে ঋণের সুদহার কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আগামী দিনে ঋণের সুদহার কমানো হবে, যাতে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়। এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, উত্তরণ-পরবর্তী প্রস্তুতি জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যাবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।’তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়গুলো সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।তবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশ কমার পূর্বাভাসের পক্ষে কোনো গবেষণা বা হিসাবের বিস্তারিত তথ্য অনুষ্ঠানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।