তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হলে সংশ্লিষ্টদের অত্যন্ত কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনের নামে মূলত একটি গোষ্ঠী ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘সীমান্তের ওপারের ইশারায়’ দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।
সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিক নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, রাজপথে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। যারা নিরীহ শ্রমিকদের আবেগকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইবে কিংবা আইনের বাইরে গিয়ে যেকোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাবে, তাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কঠোর হস্তে দমন করবে।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শিল্পাঞ্চলে যারা ভাঙচুর ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে, সেখানে কোনো সাধারণ শ্রমিক ভাইবোন জড়িত ছিলেন না; বরং পতিত শক্তির দোসররা এতে সক্রিয় ছিল। তিনি বলেন, “ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সীমান্তের ওপারের ইশারায় অনেকেই দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। তবে বর্তমান সরকার কোনো শিল্প কারখানা বন্ধ করতে চায় না, কারণ এর সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিকের রুটি-রুজি এবং দেশের অর্থনীতি জড়িত।”
ডিসেম্বর মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনের গুঞ্জন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কিসের এই ডিসেম্বর-ডিসেম্বর করছেন? ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এ মাসে জাতীয়ভাবে আমাদের নানা কর্মসূচি রয়েছে এবং থাকবে।”
বিদেশে অবস্থানরত রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যদি দেশে ফিরতে চায়, তবে যেন অতিশীঘ্রই প্রত্যাবর্তন করে; তাদের সঙ্গে দেশের আইন অনুযায়ী সুবিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, পলাতক আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক নেতাকর্মী কর্মীদের মনোবল চাঙা রাখতে এই ‘ডিসেম্বর ডিসেম্বর’ রব তুলছেন। তবে সরকার তাদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশকে নিয়ম অনুযায়ী চিঠি দিয়ে অবহিত করেছে।
মন্তব্যসমূহ