রাজধানীর বনানীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে গ্যাসের চুলার লিকেজ থেকে লাগা আগুনে গুরুতর দগ্ধ ফিলিপাইনের নারী পর্যটক ক্রিস্টিন ভার (৩৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শরীরের ৬৩ শতাংশ পোড়া ক্ষত নিয়ে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর রাতে বনানী থানার ৭ নম্বর সড়কের ৬৬ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাটে গ্যাসের চুলায় আগুন ধরাতে গেলে জমে থাকা গ্যাস থেকে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এতে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন ক্রিস্টিন। দুর্ঘটনার পরপরই তাঁকে প্রথমে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
ওই ভবনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমিন জানান, রান্নার উদ্দেশ্যে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে লিকেজ থেকে মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি দগ্ধ হন। গত ১৫ অক্টোবর ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে তিনি ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন।
বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আজিনোমোটো কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাপানি নাগরিক নাকাসিমা ফুমিয়াকি জানান, ক্রিস্টিন তাঁর পারিবারিক বান্ধবী ছিলেন। গত ১৫ অক্টোবর থেকেই তাঁরা দুজন বনানীর ওই ফ্ল্যাটটিতে অবস্থান করছিলেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার নিশ্চিত করেছেন যে, ক্রিস্টিনের শরীরের ৬৩ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ শারীরিক জটিলতার কারণে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের জন্য মরদেহটি বর্তমানে মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে বনানী থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে অবহিত করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ