ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পোশাক খাতে সহিংসতা দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পোশাক খাতে সহিংসতা দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ এবং উদ্ভূত সহিংসতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ শ্রমিকদের আবেগকে পুঁজি করে রাজধানীর মিরপুর, সাভার ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে নাশকতা ও অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে দ্রুত বাস্তবসম্মত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের নির্দেশ দেন তিনি।

রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা ও শিল্প পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মন্ত্রী ও শীর্ষ উপদেষ্টাদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে সচল রাখা এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন—উভয় দিক বিবেচনা করেই সরকার কাজ করছে। তবে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা, সড়ক অবরোধ বা কারখানায় ভাঙচুর মেনে নেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী নিরীহ শ্রমিকদের আন্দোলনের ভেতরে মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং সীমান্তের ওপার থেকেও একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত করতে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এ ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনো ছাড় না দিয়ে কঠোর হাতে দমন করতে পুলিশসহ যৌথ বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কয়েক দিনের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে এ আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং সুযোগ সৃষ্টির জন্য কিছু মালিক কারখানা আগেভাগেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর পূর্বনির্ধারিত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন।

অন্যদিকে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনার জন্য সিনিয়র জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে চেয়ারম্যান করে ছয় সদস্যের নতুন ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বোর্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে নিরপেক্ষ সদস্য করা হয়েছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের আসিফ আইয়ুব ও বিজিএমইএ পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের সংকটের বিষয়টি মালিকপক্ষ অনুধাবন করে। তবে বৈশ্বিক মন্দা ও উৎপাদন ব্যয়ের বাস্তবতায় কারখানার সক্ষমতা ধরে রেখে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ট্যাগ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


পোশাক খাতে সহিংসতা দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ এবং উদ্ভূত সহিংসতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ শ্রমিকদের আবেগকে পুঁজি করে রাজধানীর মিরপুর, সাভার ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে নাশকতা ও অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে দ্রুত বাস্তবসম্মত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের নির্দেশ দেন তিনি।

রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা ও শিল্প পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মন্ত্রী ও শীর্ষ উপদেষ্টাদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে সচল রাখা এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন—উভয় দিক বিবেচনা করেই সরকার কাজ করছে। তবে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা, সড়ক অবরোধ বা কারখানায় ভাঙচুর মেনে নেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী নিরীহ শ্রমিকদের আন্দোলনের ভেতরে মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং সীমান্তের ওপার থেকেও একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত করতে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এ ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনো ছাড় না দিয়ে কঠোর হাতে দমন করতে পুলিশসহ যৌথ বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কয়েক দিনের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে এ আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং সুযোগ সৃষ্টির জন্য কিছু মালিক কারখানা আগেভাগেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর পূর্বনির্ধারিত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন।

অন্যদিকে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনার জন্য সিনিয়র জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে চেয়ারম্যান করে ছয় সদস্যের নতুন ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বোর্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে নিরপেক্ষ সদস্য করা হয়েছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের আসিফ আইয়ুব ও বিজিএমইএ পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের সংকটের বিষয়টি মালিকপক্ষ অনুধাবন করে। তবে বৈশ্বিক মন্দা ও উৎপাদন ব্যয়ের বাস্তবতায় কারখানার সক্ষমতা ধরে রেখে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ