ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অর্থায়ন: মেজর (অব.) হাফিজের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অর্থায়ন: মেজর (অব.) হাফিজের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংস উসকানিমূলক অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের (দক্ষিণ) পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শেখ বশির আহমেদ এ রিমান্ড আবেদন দাখিল করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামি খন্দকার আব্দুল হাফিজ তাঁর সহযোগী লে. (অব.) কাজী গুলশান আরা ও লে. কর্নেল (অব.) দেবাশীষ কুমার বড়ুয়াসহ অন্যান্য সহযোগীদের যোগসাজশে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছিলেন। একই সঙ্গে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, কতিপয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন হাফিজ। এই যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস অপরাধের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা। এছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত ‘খন্দকার এ হাফিজ’ ফেসবুক আইডিসহ ‘কালআজকাল. কম’ পেজের মাধ্যমে পুলিশ হত্যার পক্ষে সাফাই গেয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। গত ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গুপ্তচরের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর আগে শনিবার রাতে রাজধানীর বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ মামলায় অপর দুই সহযোগী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে আগেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক পটভূমিতে জানা যায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ২০০৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগদান করেছিলেন সামরিক বাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং 'বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ'-এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

ট্যাগ : মেজর (অব.) হাফিজ রাজধানীর পল্লবী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অর্থায়ন: মেজর (অব.) হাফিজের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংস উসকানিমূলক অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের (দক্ষিণ) পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শেখ বশির আহমেদ এ রিমান্ড আবেদন দাখিল করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামি খন্দকার আব্দুল হাফিজ তাঁর সহযোগী লে. (অব.) কাজী গুলশান আরা ও লে. কর্নেল (অব.) দেবাশীষ কুমার বড়ুয়াসহ অন্যান্য সহযোগীদের যোগসাজশে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছিলেন। একই সঙ্গে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, কতিপয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন হাফিজ। এই যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস অপরাধের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা। এছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত ‘খন্দকার এ হাফিজ’ ফেসবুক আইডিসহ ‘কালআজকাল. কম’ পেজের মাধ্যমে পুলিশ হত্যার পক্ষে সাফাই গেয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। গত ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গুপ্তচরের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর আগে শনিবার রাতে রাজধানীর বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ মামলায় অপর দুই সহযোগী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে আগেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক পটভূমিতে জানা যায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ২০০৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগদান করেছিলেন সামরিক বাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং 'বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ'-এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ