রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছেন।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) গণমাধ্যমের কাছে তাঁর জামিন আবেদন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাঁর পক্ষে জামিনের আবেদন জানানো হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেছিলেন। তারও পূর্বে গত ৪ অক্টোবর এক দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরবের মদিনা থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য কনভেয়ার বেল্ট নম্বর ৮-এর কাছে যান। ওই সময় ব্যাপক যাত্রীর চাপের কারণে ট্রলি সংগ্রহের সাময়িক সংকট তৈরি হয় এবং দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সেই পরিস্থিতিতে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী নিয়ম ভেঙে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং লাগেজ পেতে বিলম্ব ও জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রী চরম উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ শুরু করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এলে দায়িত্ব পালনরত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিবের ওপর চড়াও হওয়া, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পরদিন ২ অক্টোবর নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। নিম্ন আদালতের সবকটি ধাপে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর এবার প্রতিকার চেয়ে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলেন।
মন্তব্যসমূহ