যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হলেই ইরানে কি নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু হবে—এমন এক গভীর অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কায় এখন থমথমে রূপ নিয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে এই যুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘ আট মাস পার হলেও সামরিক বা কূটনৈতিকভাবে কোনো পক্ষই এখনো স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে পায়নি। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে রাখছেন, অন্যদিকে আলোচনার সুযোগ থাকার কথাও বলছেন।
সংঘাতের এই ধারাবাহিক উত্তাপ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে বসবাসকারী লাখ লাখ বিদেশি নাগরিক ও চাকরিজীবীদের চরম উদ্বেগে ফেলেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যরা নীরবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ছাড়তে শুরু করায় সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাবোধে বড় ধরনের আঘাত লেগেছে। ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক বড় বড় সম্মেলন স্থগিত হচ্ছে, সৌদি আরবে অফিসিয়াল কাজ বাসা থেকে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনজুড়ে সাধারণ মানুষ যুদ্ধের প্রহর গুনছেন।
এর মধ্যেই ব্যাকস্টেজে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ৭টি মৌলিক শর্ত পূরণ না হলে কোনো স্থায়ী শান্তি বা যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে, পেছনের দরজা দিয়ে চলা এই কূটনৈতিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাবে, নাকি মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে অঞ্চলটি আরও রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধে নিমজ্জিত হবে।
সূত্র: সিএনএন
মন্তব্যসমূহ