বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট) কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত ১৯ বছর বয়সী তরুণী জেরিকা তাসনিম দিশাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন এ রিমান্ড আবেদন দাখিল করেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জানান, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ এবং উত্তরার বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতে (২৭ অক্টোবর) তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ছিলেন দিশা। ওই দিন সন্ধ্যায় তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার’ স্ন্যাকসে যান, একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে অবস্থান করেন এবং রাতে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ প্রবেশ করেন। এছাড়া তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি এবং তাদের মধ্যে একাধিকবার মুঠোফোনে দীর্ঘ কথোপকথনের তথ্যপ্রমাণও মিলেছে।
আবেদনে দিশাকে রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে পুলিশ ছয়টি মূল কারণ তুলে ধরেছে: ১. তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও মোটিভ উদ্ঘাটন করা। ২. হত্যাকাণ্ডে জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা। ৩. মামলার প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধার করা। ৪. ঠিক কোন স্থানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা। ৫. এ মামলায় চার দিনের রিমান্ডে থাকা অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্যের মিল-অমিল খতিয়ে দেখা। ৬. প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিশার দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আসামি দিশা জামিনে মুক্তি পেলে আত্মগোপনে চলে গিয়ে তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে পারেন। ফলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।
এর আগে ১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল এলাকার নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেফতার করে নৌ-পুলিশ। উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন ২৮ অক্টোবর টঙ্গীর কাছে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্যসমূহ