সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকদের যাতায়াত শুরুর কথা থাকলেও প্রশাসনিক অনুমোদন না মেলায় কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করতে পারেনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য কোনো জাহাজকেই আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান সায়েম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত কাগজপত্র দাখিল করতে না পারায় এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজকে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি প্রদান করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া পর্যটকদের নিবন্ধন ও তদারকির জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যে ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত করার কথা ছিল, সেটির কাজও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তিনি আরও জানান, আগামী বুধবার জেলা প্রশাসক সরাসরি সেন্টমার্টিন দ্বীপে গিয়ে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকের পরই জাহাজ চলাচলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (স্কোয়াব)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম জানান, এ রুটে জাহাজ চলাচলের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার জটিলতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব অনুমোদন সম্পন্ন করা যায়নি। একই সঙ্গে পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনলাইন সফটওয়্যারটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত না হওয়ায় আজ রোববার থেকে জাহাজ পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে আগামী বৃহস্পতি বা শুক্রবার থেকে জাহাজ চলাচলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান স্পষ্ট করেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার থেকে দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলেও যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজের ফিটনেস, পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম ও যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত না করে কোনো অনুমতি দেওয়া হবে না। খুব শিগগিরই জাহাজ মালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে সার্বিক নিরাপত্তা পর্যালোচনা করে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
মন্তব্যসমূহ