দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। এর ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকায়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে এবং আজ রোববারও (১ নভেম্বর) একই সমন্বিত দামে বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে অলংকারের এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস ঘোষিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা (কমেছে ৫,৪৮২ টাকা)।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৭ হাজার ৭৯৪ টাকা (কমেছে ৫,২৪৯ টাকা)।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা (কমেছে ৪,৪৯১ টাকা)।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা (কমেছে ৩,৬৭৪ টাকা)।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ঘোষিত প্রতিটি বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই সরকারি ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই অলংকার বিক্রির সময় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে আর কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না; তবে ক্রেতাকে ডিজাইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট মজুরি পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া পুরাতন অলংকার এক্সচেঞ্জ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে মূল স্বর্ণের মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ এবং সরাসরি বিক্রির (পারচেজ) ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ কর্তন প্রযোজ্য হবে।
এর আগে গত ৩০ অক্টোবর ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। ফলে এক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় বড় অঙ্কে কমল স্বর্ণের দাম। এ নিয়ে চলতি ২০২৬ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে ৬২ বার বাড়ানো হয়েছে, ৬৭ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। এর বিপরীতে বিগত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল।
সূত্র: (বাজুস)
মন্তব্যসমূহ