ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক
ফাইল ছবি
ফলো করুন

বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেন, কেনাবেচা, বিনিময় ও স্থানান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনাটি প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে। গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে যাতে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমসংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা সমন্বিত নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক বিনিময় হার ও প্রতিবেদন দাখিল, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেন, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (এসিইউ) ব্যবস্থায় অর্থ পরিশোধ ও নিষ্পত্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব পরিচালনা।

এ ছাড়া ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখার সীমা বা ওপেন পজিশন, নস্ট্রো হিসাবের সমন্বয়, ফরওয়ার্ড লেনদেন, সোয়াপ এবং আমদানি বাণিজ্যে পণ্যমূল্যের ঝুঁকি হেজিংসংক্রান্ত বিষয়ও নীতিমালায় রয়েছে। এর পাশাপাশি ভার্চুয়াল সম্পদ ও মুদ্রার বিনিময়, স্থানান্তর এবং লেনদেন নিষিদ্ধ রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগেও একাধিক নির্দেশনার মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেন বন্ধের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছিল, ভার্চুয়াল সম্পদ বা মুদ্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে, বাংলাদেশে কিংবা দেশের অভ্যন্তরে কোনো লেনদেন অনুমোদিত নয়। একই বছরের ১২ অক্টোবর ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে ভার্চুয়াল মুদ্রার কোনো স্বীকৃতি নেই। এসব সম্পদের বিপরীতে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিশ্চয়তাও থাকে না। ফলে বাজারে এগুলোর মূল্য দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।

এদিকে, বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর ব্যবহার বাড়ছে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান চেনালাইসিস ১১৭টি দেশের তথ্য পর্যালোচনা করে ‘দ্য ২০২৬ জিওগ্রাফি অব ক্রিপ্টো রিপোর্ট’ প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৬তম অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ষষ্ঠ, পাকিস্তান ২৫তম এবং শ্রীলঙ্কা ৮২তম অবস্থানে রয়েছে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রিপ্টোকারেন্সি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেন, কেনাবেচা, বিনিময় ও স্থানান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনাটি প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে। গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে যাতে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমসংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা সমন্বিত নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক বিনিময় হার ও প্রতিবেদন দাখিল, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেন, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (এসিইউ) ব্যবস্থায় অর্থ পরিশোধ ও নিষ্পত্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব পরিচালনা।

এ ছাড়া ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখার সীমা বা ওপেন পজিশন, নস্ট্রো হিসাবের সমন্বয়, ফরওয়ার্ড লেনদেন, সোয়াপ এবং আমদানি বাণিজ্যে পণ্যমূল্যের ঝুঁকি হেজিংসংক্রান্ত বিষয়ও নীতিমালায় রয়েছে। এর পাশাপাশি ভার্চুয়াল সম্পদ ও মুদ্রার বিনিময়, স্থানান্তর এবং লেনদেন নিষিদ্ধ রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগেও একাধিক নির্দেশনার মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেন বন্ধের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছিল, ভার্চুয়াল সম্পদ বা মুদ্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে, বাংলাদেশে কিংবা দেশের অভ্যন্তরে কোনো লেনদেন অনুমোদিত নয়। একই বছরের ১২ অক্টোবর ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে ভার্চুয়াল মুদ্রার কোনো স্বীকৃতি নেই। এসব সম্পদের বিপরীতে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিশ্চয়তাও থাকে না। ফলে বাজারে এগুলোর মূল্য দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।

এদিকে, বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর ব্যবহার বাড়ছে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান চেনালাইসিস ১১৭টি দেশের তথ্য পর্যালোচনা করে ‘দ্য ২০২৬ জিওগ্রাফি অব ক্রিপ্টো রিপোর্ট’ প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৬তম অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ষষ্ঠ, পাকিস্তান ২৫তম এবং শ্রীলঙ্কা ৮২তম অবস্থানে রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ