ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: নেপথ্যে কি তবে পাকিস্তানের হাত?

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: নেপথ্যে কি তবে পাকিস্তানের হাত?
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ আট মাস ধরে চলমান সংঘাতের অবসান এবং থমকে যাওয়া যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে মধ্যপ্রাচ্যে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এই আঞ্চলিক শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাসভা চলমান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পেয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, মধ্যস্থতার এই প্রচেষ্টায় কিছু ইতিবাচক লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের পর সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই প্রথমবার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।

চলমান এই নেপথ্য কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন। চলতি অক্টোবর মাসেই তিনি দুই দফায় তেহরান সফর করেছেন। তাঁর সর্বশেষ সফরে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং তুরস্কের শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধানও উপস্থিত ছিলেন।

এই যৌথ সফরের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। গত ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী—যেকোনো একটি দেশের ওপর বহিরাগত আক্রমণ এলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও সরাসরি হামলা হিসেবে গণ্য হবে। চলমান সংঘাতের বাস্তবতায় এই জোটে ইরানের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

ইরান এই প্রতিরক্ষা বলয়ে যুক্ত হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র সরাসরি নিশ্চয়তা না দিলেও সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত রেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যৌথ সুরক্ষার লক্ষ্য যাদের রয়েছে, তাদের সবাইকে স্বাগত জানানোর নীতিগত সুযোগ রয়েছে; তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অংশীদার দেশগুলোর রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর।

তবে চলমান উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক হলেও প্রক্রিয়াটি মসৃণ নয় বলে সতর্ক করেছে পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ। সেনাসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি শক্তিশালী স্বার্থান্বেষী মহল পর্দার আড়াল থেকে এই সমঝোতা নস্যাতের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। একদিকে কাতারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধি দলের তেহরান সফর, অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সার্বিক শান্তি প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

সূত্র: আল-জাজিরা

ট্যাগ : ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: নেপথ্যে কি তবে পাকিস্তানের হাত?

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ আট মাস ধরে চলমান সংঘাতের অবসান এবং থমকে যাওয়া যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে মধ্যপ্রাচ্যে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এই আঞ্চলিক শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাসভা চলমান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পেয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, মধ্যস্থতার এই প্রচেষ্টায় কিছু ইতিবাচক লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের পর সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই প্রথমবার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।

চলমান এই নেপথ্য কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন। চলতি অক্টোবর মাসেই তিনি দুই দফায় তেহরান সফর করেছেন। তাঁর সর্বশেষ সফরে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং তুরস্কের শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধানও উপস্থিত ছিলেন।

এই যৌথ সফরের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। গত ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী—যেকোনো একটি দেশের ওপর বহিরাগত আক্রমণ এলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও সরাসরি হামলা হিসেবে গণ্য হবে। চলমান সংঘাতের বাস্তবতায় এই জোটে ইরানের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

ইরান এই প্রতিরক্ষা বলয়ে যুক্ত হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র সরাসরি নিশ্চয়তা না দিলেও সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত রেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যৌথ সুরক্ষার লক্ষ্য যাদের রয়েছে, তাদের সবাইকে স্বাগত জানানোর নীতিগত সুযোগ রয়েছে; তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অংশীদার দেশগুলোর রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর।

তবে চলমান উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক হলেও প্রক্রিয়াটি মসৃণ নয় বলে সতর্ক করেছে পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ। সেনাসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি শক্তিশালী স্বার্থান্বেষী মহল পর্দার আড়াল থেকে এই সমঝোতা নস্যাতের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। একদিকে কাতারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধি দলের তেহরান সফর, অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সার্বিক শান্তি প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

সূত্র: আল-জাজিরা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ