যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরদিন, আগামী ৪ নভেম্বর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য এই অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসনাউ (MS Now)-এর বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই সতর্কবার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত এই আক্রমণটি স্বল্পস্থায়ী হলেও এর আঘাতের মাত্রা হবে অত্যন্ত তীব্র। তবে এই অভিযানের ফলে ইরান বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানতে পারে—এমন আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো চরম উদ্বেগে রয়েছে। তারা পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমিত করতে ওয়াশিংটনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এক আরব কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিজেদের নিরাপত্তা ও জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার্থে কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে এই হামলা চালানোর বিষয়ে আপত্তি বা বিরোধিতা তুলতে পারে।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো সরাসরি সামরিক হামলা পরিচালনা করেনি। তাছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন কোনো অভিযান চালানো হবে না। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমএসনাউ-কে বলেন, ‘আমরা এমন কোনো সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করি না, যার অস্তিত্ব থাকতে পারে, আবার নাও থাকতে পারে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিকসহ সব ধরনের বিকল্প টেবিলে উন্মুক্ত রেখেছেন।
এদিকে সম্ভাব্য আক্রমণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনকে নতুন কোনো সামরিক দুঃসাহস না দেখানোর বিষয়ে সরাসরি সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেকোনো শত্রুর উসকানি বা হুমকির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ‘ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা’ বা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন না মেনে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সামরিক জবাব নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে ইরান সংঘাতের সূচনা হয়। দীর্ঘ আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ