ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি আখতার হোসেনের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি আখতার হোসেনের
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এসব ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন আখতার হোসেন।

বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে উন্নতি তো দূরের কথা, রাজনৈতিক দল হিসেবেও বিএনপি এখনো নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, গত নয় মাসে দলটির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দখলদারত্ব ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এক ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সংবিধান রক্ষার মিশনে নেমেছেন।’

সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলি, যে ব্যর্থ বাংলাদেশ আপনারা তৈরি করেছেন, এই ব্যর্থ বাংলাদেশের দায় সরাসরি তারেক রহমানকেই নিতে হবে।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়েও সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। আখতার হোসেন বলেন, বাজেটের সময় পণ্যের দাম না বাড়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে বাজেটের আগে ও পরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং এখনো সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

জ্বালানি ব্যয়ের তুলনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গ্যাসের দাম কত এখন? কলকাতায় গ্যাস কিনবেন হাজার টাকায়। আর বাংলাদেশে গ্যাস কিনতে লাগে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের কোনো প্রভাব পড়ে না? যদি কলকাতা হাজার টাকায় গ্যাস দিতে পারে, বাংলাদেশের জনগণকে কেন ২ হাজার ৫০০ টাকায় গ্যাস কিনতে হয়, এই উত্তর জ্বালানিমন্ত্রীকে দিতে হবে।’

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির সদস্য সচিব। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর দেশে মানবাধিকার সুরক্ষায় শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সরকারের প্রণীত আইনগুলো দুর্বল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা তাওসিফ সাউরির মরদেহ নদী থেকে উদ্ধারের ঘটনাও উল্লেখ করেন আখতার হোসেন। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিওটি তাওসিফ সাউরি ফেসবুকে ছড়িয়েছিলেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের উল্লাস প্রকাশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দলটির বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপি সরকার।

সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে চারটি দাবি তুলে ধরেন আখতার হোসেন। দাবিগুলো হলো—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ, একদলীয় একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, মানবাধিকারের পরিপন্থি সব আইন বাতিল এবং আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা।

এ ছাড়া আসন্ন সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী না আনার দাবিও জানান তিনি।

গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন এনসিপির সদস্য সচিব। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হবে। চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে কি না, তা সরকারকে জনগণের কাছে প্রমাণ করতে হবে।

ট্যাগ : এনসিপি আখতার হোসেন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি আখতার হোসেনের

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এসব ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন আখতার হোসেন।

বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে উন্নতি তো দূরের কথা, রাজনৈতিক দল হিসেবেও বিএনপি এখনো নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, গত নয় মাসে দলটির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দখলদারত্ব ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এক ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সংবিধান রক্ষার মিশনে নেমেছেন।’

সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলি, যে ব্যর্থ বাংলাদেশ আপনারা তৈরি করেছেন, এই ব্যর্থ বাংলাদেশের দায় সরাসরি তারেক রহমানকেই নিতে হবে।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়েও সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। আখতার হোসেন বলেন, বাজেটের সময় পণ্যের দাম না বাড়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে বাজেটের আগে ও পরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং এখনো সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

জ্বালানি ব্যয়ের তুলনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গ্যাসের দাম কত এখন? কলকাতায় গ্যাস কিনবেন হাজার টাকায়। আর বাংলাদেশে গ্যাস কিনতে লাগে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের কোনো প্রভাব পড়ে না? যদি কলকাতা হাজার টাকায় গ্যাস দিতে পারে, বাংলাদেশের জনগণকে কেন ২ হাজার ৫০০ টাকায় গ্যাস কিনতে হয়, এই উত্তর জ্বালানিমন্ত্রীকে দিতে হবে।’

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির সদস্য সচিব। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর দেশে মানবাধিকার সুরক্ষায় শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সরকারের প্রণীত আইনগুলো দুর্বল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা তাওসিফ সাউরির মরদেহ নদী থেকে উদ্ধারের ঘটনাও উল্লেখ করেন আখতার হোসেন। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিওটি তাওসিফ সাউরি ফেসবুকে ছড়িয়েছিলেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের উল্লাস প্রকাশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দলটির বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপি সরকার।

সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে চারটি দাবি তুলে ধরেন আখতার হোসেন। দাবিগুলো হলো—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ, একদলীয় একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, মানবাধিকারের পরিপন্থি সব আইন বাতিল এবং আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা।

এ ছাড়া আসন্ন সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী না আনার দাবিও জানান তিনি।

গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন এনসিপির সদস্য সচিব। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হবে। চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে কি না, তা সরকারকে জনগণের কাছে প্রমাণ করতে হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ