হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাত দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে ইরান। অন্যদিকে দেশটির সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে নির্দেশ দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আল জাজিরার সরাসরি সংবাদ সম্প্রচারে দুই দেশের এই ভিন্ন অবস্থানের কথা উঠে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ও যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার সাত দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের উপায় খতিয়ে দেখছে।
ইরানের প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।
তবে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করছে দুই পক্ষের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমঝোতার ওপর।
আল জাজিরাকে ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরানের কাছে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর চেয়ে নিজেদের দাবিগুলোর বাস্তবায়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস থাকায় ইরান এমন নিশ্চয়তা চাইছে, যাতে সাময়িক কিংবা স্থায়ী কোনো সমঝোতা হলে তা যথাযথভাবে পালন করা হয়।
এ অবস্থায় কেবল আলোচনা শুরু হলেই যুদ্ধ শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না।
ইরান সম্প্রতি কাতার, রাশিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ করেছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ইরানের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইয়ের কাছে যোগাযোগ করেছেন ভ্যান্স।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন শান্তি আলোচনা শুরু করার নির্দেশ তিনি দেননি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যোগাযোগের বিষয়টি ছিল ইরানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
পরে ট্রাম্প জানান, চিকিৎসাসামগ্রীর বিষয়ে যোগাযোগের জন্য ভাইস প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তিনি অনুমোদন দিয়েছিলেন।
অর্থাৎ যোগাযোগের অনুমোদনের কথা স্বীকার করলেও সেটিকে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরুর নির্দেশ হিসেবে বর্ণনা করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে এ পথে স্বাভাবিক নৌবাণিজ্য ব্যাহত হয়েছে।
তেহরান এর আগে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হলে তারা প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে এগোতে প্রস্তুত।
এসব শর্তের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার দাবি রয়েছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে।
ফলে হরমুজ খুলে দেওয়া এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্যে কোন পদক্ষেপ আগে কার্যকর হবে, সেটি আলোচনার অন্যতম জটিল বিষয় হয়ে রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো খোলা থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তবে তেহরানের শর্ত পূরণ, ওয়াশিংটনের অবস্থান এবং সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা নিয়ে মতপার্থক্য কাটেনি।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ভাইস প্রেসিডেন্টের যোগাযোগকে শান্তি আলোচনার আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে স্বীকার করেনি।
ফলে চলমান যোগাযোগকে এখনই নতুন যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তির নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সূত্র : আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ