ইরানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে লেবানন। তবে দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ও যোগাযোগ অবশ্যই সাংবিধানিক ও বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি যোগাযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে বৈরুত। রোববার (৩০ আগস্ট) লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়। মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেবানন সরকারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার যে আগ্রহ জানিয়েছেন, বৈরুত তাকে স্বাগত জানায়। লেবাননও ইরানসহ সব দেশের সঙ্গে সর্বোত্তম সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। [BANGVIEWS-POST:4815]তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছে লেবানন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট দেশের সাংবিধানিক ও বৈধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া উচিত; কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ দল বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে নয়। লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ইরান বা অন্য কোনো দেশ যেমন তাদের দেশে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূতকে সরকারি প্রতিষ্ঠান পাশ কাটিয়ে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেবে না, একইভাবে লেবাননও নিজের ভূখণ্ডে এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক রাষ্ট্রের সঙ্গে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই গড়ে উঠতে হবে। শাফাক নিউজ জানিয়েছে, লেবাননের বক্তব্যে সরাসরি হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ না করা হলেও বিবৃতিটি ইরানের সঙ্গে হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রকাশ্য ও দীর্ঘদিনের। [BANGVIEWS-POST:4814]এর আগে শুক্রবার আরাঘচি বলেছিলেন, তেহরান লেবানন সরকারের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রাখতে চায়। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক বিস্তৃত করা ইরানের নীতির অংশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে লেবাননের কিছু নীতির সমালোচনা করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে আরও ‘বাস্তবসম্মত’ অবস্থান নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। লেবাননের পাল্টা বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন দেশটির সরকার ও হিজবুল্লাহর মধ্যে অস্ত্র ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে। গত ২৮ আগস্ট হিজবুল্লাহপ্রধান নাইম কাসেম ইসরায়েল-লেবানন ত্রিপক্ষীয় কাঠামো প্রত্যাখ্যান করেন এবং সংগঠনটির অস্ত্র সমর্পণের আহ্বানের বিরোধিতা করেন। পরদিন বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসও হিজবুল্লাহকে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানায়।