রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে ৫২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে ৪৬টি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫০ জন মিরপুর বিভাগের।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ যানবাহন ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে মিরপুর বিভাগে। এই বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর তেজগাঁও বিভাগে ৭৩ জন এবং মতিঝিল বিভাগে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৫৫ জন, গুলশান বিভাগে ৫০ জন, লালবাগ বিভাগে ৪৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৬ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
নিয়মিত থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগও অভিযানে অংশ নেয়। গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে চারজন এবং এসআরইউ বিভাগের অভিযানে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সব মিলিয়ে ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৫ জনে।
গ্রেপ্তার অভিযানের সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থান থেকে ২৩ হাজার ১৪৬টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পাঁচ কেজি ২৫৫ গ্রাম গাঁজা এবং ৮০ বোতল এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
এসব মাদকদ্রব্যের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
মাদকদ্রব্য ছাড়াও অভিযানে বেশ কিছু যানবাহন ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে একটি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেটকার, দুটি ওয়াকিটকি এবং ছয়টি মোবাইল ফোন।
এ ছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৫০ কেজি স্ক্র্যাপ কেবল উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ওই ব্যক্তিকে কোথা থেকে, কী পরিস্থিতিতে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে ৫২৫ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে কিংবা ৪৬টি মামলায় কতজনকে আসামি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আলাদা তথ্য দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া মাদক ও অন্যান্য সরঞ্জাম কোন কোন থানা এলাকা থেকে পাওয়া গেছে, তারও বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
ডিএমপির নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব গ্রেপ্তার ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ