স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় টলেডো প্রদেশে দুটি দ্রুতগতির (হাই-স্পিড) যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৭৫ জন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে টলেডো প্রদেশের উরদা ও লস ইয়েবেনেস এলাকার মধ্যবর্তী রেলপথে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিভিই এ খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রেন দুটি রাজধানী মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সেভিয়ার দিকে যাত্রা করছিল। একই লাইনে চলার সময় পেছনের ট্রেনটি তীব্র গতিতে এসে সামনের ট্রেনটির পেছনে প্রচণ্ড ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বেসরকারি অপারেটর ইরিও-এর ট্রেনের অন্তত দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ট্র্যাকের পাশের বাঁধের নিচে ছিটকে পড়ে সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ট্রেনের ভাঙা বগি ও ধাতব ধ্বংসাবশেষ রেললাইনের নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।
স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা এডিআইএফ (Adif) জানিয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রীয় রেল অপারেটর রেনফে (Renfe)-র একটি ‘এভিই’ ট্রেন এবং বেসরকারি হাই-স্পিড অপারেটর ‘ইরিও’ (Iryo)-এর একটি ট্রেনের মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় দমকল বাহিনী, সামরিক জরুরি ইউনিট, তিনটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার এবং মোবাইল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক উদ্ধারকাজ শুরু করে। বহু যাত্রীকে ট্রেনের দুমড়ে যাওয়া বগির ভেতর থেকে কেটে বের করে আনা হচ্ছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় তিনি বলেন, “টলেডোর এই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। পরিবহন মন্ত্রণালয় ও আঞ্চলিক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পরিষেবাগুলো উদ্ধারকাজে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।”
মন্তব্যসমূহ