ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সিউটায় রেকর্ড অভিবাসন প্রবেশ, আশ্রয়ের দাবিতে শত শত মানুষের বিক্ষোভ

স্পেনের ছিটমহল সিউটায় রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী প্রবেশের পর আশ্রয়ের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। মরক্কোতে ফেরত না পাঠিয়ে তাদের স্পেনে থাকার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।গত ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো সীমান্ত দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ সিউটায় প্রবেশ করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭২ হাজার অভিবাসী সীমান্ত অতিক্রম করে সেখানে ঢুকেছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সীমান্ত সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামলাতে না পেরে সিউটার বিভিন্ন এলাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ অভিবাসী মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় শহরের উপকণ্ঠ ও এল ত্রাম্পোলিন সৈকত এলাকায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।[BANGVIEWS-POST:3903]মরক্কোর তেতুয়ান থেকে আসা আইয়ুব এলআরুদ জানান, তারা সমুদ্রের পাশে খোলা জায়গায় রাত কাটাচ্ছেন। ঠান্ডা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নানা দুর্ভোগের মধ্যে দিন পার করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।বিক্ষোভকারীরা স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নামেন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আমরা মরক্কোয় ফিরে যেতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’। তারা দ্রুত সমাধানের দাবিও জানান।বিক্ষোভের সময় দেখা যায়, অনেক অভিবাসী পাথুরে উপকূলে কাপড় ধুচ্ছেন, কেউ আবার খাবারের ব্যবস্থা করতে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন।স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, অনিয়মিতভাবে সিউটায় প্রবেশকারীদের সেখানে স্থায়ীভাবে থাকা, মূল ভূখণ্ডে যাওয়া বা বৈধ মর্যাদা দেওয়ার সুযোগ সাধারণভাবে দেওয়া হবে না। তবে চরম মানবিক ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বিবেচনা করা হতে পারে।এদিকে সিউটার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিকে রোভিরাল্তা বলেন, সীমিত সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ডায়রিয়া ও খোসপাঁচড়ার মতো কিছু রোগ ছড়িয়ে পড়ার কথাও জানান তিনি।তবে স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। অভিবাসীদের সঙ্গে রোগব্যাধিকে যুক্ত করা অন্যায্য এবং বৈষম্যমূলক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সিউটায় অবস্থানরত অধিকাংশ অভিবাসী মরক্কোর নাগরিক। তারা জানিয়েছেন, দেশে কাজের সুযোগ সীমিত হওয়া এবং উন্নত জীবনের আশায় তারা ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।[BANGVIEWS-POST:3902]এদের মধ্যে নাইজেরিয়ার নাগরিক ইমানুয়েল জানান, সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য তিনি দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য ভালো ভবিষ্যৎ তৈরি করাই তার মূল লক্ষ্য।দক্ষিণ সেনেগালের উসমান জানান, নিজের যৌন পরিচয়ের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে এখনো কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।সিউটার বর্তমান পরিস্থিতি ইউরোপের অভিবাসন নীতি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং মানবিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।সূত্র: রয়টার্স

সিউটায় রেকর্ড অভিবাসন প্রবেশ, আশ্রয়ের দাবিতে শত শত মানুষের বিক্ষোভ