ইসরায়েলের জাতীয় সংসদ (নেসেট) নির্বাচনের শতভাগ নিয়মিত সাধারণ ভোট গণনা শেষে কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
ডাবল-এনভেলপ বা দ্বৈত খাম পদ্ধতির বিশেষ ভোট বাদ দিয়ে এই ফলাফল মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৮৬ শতাংশ প্রতিফলন করছে। ১২০ সদস্যবিশিষ্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১টি আসনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ প্রয়োজন হলেও নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী শিবিরের কেউই এককভাবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি এখন দীর্ঘ ও জটিল রাজনৈতিক সমঝোতা এবং জোট আলোচনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থী সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ এবং দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক নির্বাচনী অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর পর্যবেক্ষণে ছিল। প্রাথমিক বুথফেরত জরিপেই কোনো দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ের সম্ভাবনা নাকচ করা হয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতির জটিলতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ নতুন করে আবার কোনো নির্বাচন এড়াতে দলগুলোকে সর্বাত্মক সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বিশেষ করে গত দিনের ভোটের পর আবারও দেশকে আরেকটি ব্যয়বহুল নির্বাচনের মুখে ঠেলে দেওয়া রোধে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ছাড় ও পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাজনৈতিক মেরুকরণে নেতানিয়াহু একটি কট্টর ডানপন্থী জোট সরকার গঠনের পক্ষে নিজের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আরব দলগুলোর সাথে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
দলভিত্তিক আসন বণ্টনে দেখা যায়, একক দল হিসেবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৬টি আসন জিতেছে।
সামরিক বাহিনীর সদস্য, কূটনীতিক ও চিকিৎসাকর্মীদের অবশিষ্ট ‘ডাবল-এনভেলপ’ ভোট গণনার পর সামান্য কিছু আসনের রদবদল ঘটতে পারে। তবে বিদ্যমান সমীকরণে নেতানিয়াহুর পক্ষে যেমন সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসন মেলানো বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি মতাদর্শগত বিশাল বৈপরীত্য দূর করে বিকল্প ঐকমত্য গড়ে তোলাও বিরোধী দলগুলোর জন্য এক জটিল রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
মন্তব্যসমূহ