ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মাদারীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ

মাদারীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী গ্রামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত পাঁচটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এবং প্রায় ৩০টি বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি নির্বাচিত করা হলে আপত্তি তোলেন স্থানীয় প্রভাবশালী বাচ্চু মোড়ল। তিনি নিজেকে বৈধ সভাপতি দাবি করে বিরোধে জড়ান। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বাচ্চু মোড়ল এবং সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে এর আগেও কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে বাচ্চু মোড়লের শতাধিক সশস্ত্র কর্মী-সমর্থক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ তাণ্ডবে বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি অন্তত পাঁচটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৩০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা-পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য তামিম মাতুব্বর ও সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন, পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দিলে প্রতিপক্ষ এ হামলার সুযোগ পায়।

তবে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ অস্বীকার করে বাচ্চু মোড়ল দাবি করেন, এলাকায় এমদাদ মাতুব্বর ও তাঁর অনুসারীরাই দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন এবং নিজেরা অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে এখন তাঁদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আধিপত্য ও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এ দুই পক্ষ প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ায়। কারও ব্যক্তিগত মর্জিমাফিক কাজ না করলেই পুলিশের ওপর অভিযোগ তোলা হয়। প্রকৃত হামলাকারী ও নাশকতাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মামলার এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্ত করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্যাগ : মাদারীপুর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


মাদারীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী গ্রামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত পাঁচটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এবং প্রায় ৩০টি বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি নির্বাচিত করা হলে আপত্তি তোলেন স্থানীয় প্রভাবশালী বাচ্চু মোড়ল। তিনি নিজেকে বৈধ সভাপতি দাবি করে বিরোধে জড়ান। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বাচ্চু মোড়ল এবং সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে এর আগেও কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে বাচ্চু মোড়লের শতাধিক সশস্ত্র কর্মী-সমর্থক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ তাণ্ডবে বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি অন্তত পাঁচটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৩০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা-পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য তামিম মাতুব্বর ও সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন, পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দিলে প্রতিপক্ষ এ হামলার সুযোগ পায়।

তবে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ অস্বীকার করে বাচ্চু মোড়ল দাবি করেন, এলাকায় এমদাদ মাতুব্বর ও তাঁর অনুসারীরাই দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন এবং নিজেরা অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে এখন তাঁদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আধিপত্য ও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এ দুই পক্ষ প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ায়। কারও ব্যক্তিগত মর্জিমাফিক কাজ না করলেই পুলিশের ওপর অভিযোগ তোলা হয়। প্রকৃত হামলাকারী ও নাশকতাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মামলার এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্ত করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ