ইসরায়েলের জাতীয় সংসদ (নেসেট) নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচনোত্তর বুথফেরত জরিপ (এক্সিট পোল) ও প্রাথমিক ভোট গণনার গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী, পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ১৭টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর প্রার্থীরা। ইসরায়েলের আরব ও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের অভূতপূর্ব ভোটদানের কারণেই এমন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনি আরবদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রধান দুই রাজনৈতিক দল—‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ‘রাম’ (ইউনাইটেড আরব লিস্ট) যৌথভাবে এই ১৭টি আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোটের মধ্যে সরকার গঠনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলায় এই ১৭টি আসন নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে মূল ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য দূরীকরণ, নিজেদের নাগরিক অস্তিত্ব রক্ষা এবং চরম ডানপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেই এবার ইসরায়েলি ফিলিস্তিনি নাগরিকরা বিপুল সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। সাধারণত দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক হলেও অতীতে বড় একটি অংশ ভোটদানে বিরত থাকতেন বা নির্বাচন বর্জন করতেন। কিন্তু এবার তাঁরা প্রায় ৮০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করে ১৯৯৯ সালের পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।
ফিলিস্তিনি ভোটারদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণের ফলে ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক এ ফলাফল যদি চূড়ান্ত হিসাবে বহাল থাকে, তবে যেকোনো রাজনৈতিক শিবিরের পক্ষেই আরব দলগুলোর সমর্থন বা সমঝোতা ছাড়া সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ