রাজধানীর ব্যস্ততম গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো সড়ক যেকোনো মূল্যে সম্পূর্ণ হকার ও দখলমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানের বাইরে মূল রাস্তা বা ফুটপাত দখল করে দোকান বসালে তাৎক্ষণিকভাবে মালপত্র জব্দের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় ডিএসসিসির চলমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান সরেজমিন পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, হকারদের জীবিকা ও পুনর্বাসনের কথা বিবেচনা করে শহরের নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাত, নৈশকালীন বাজার এবং হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অনুমোদিত এলাকার বাইরে কোনো অবস্থাতেই মূল সড়ক দখল করতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে শুরু করে সদরঘাট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কটি সার্বক্ষণিক সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রাখা হবে।
উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ফুটপাত দখলের প্রবণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মো. আবদুস সালাম বলেন, হকারদের বারবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং তাঁদের সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও আইন অমান্য করে বারবার উচ্ছেদ করা জায়গা দখল করা হচ্ছে। তাই জনস্বার্থে এবার কঠোর আইনি ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। তিনি নিশ্চিত করেন, পথচারী ও যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে।
এর আগে বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার এবং ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট সংলগ্ন এলাকায় বৃহৎ পরিসরে যৌথ উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএসসিসি। অভিযানকালে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে গড়ে তোলা শতাধিক অবৈধ অস্থায়ী দোকান ও পাকা-আধাপাকা অবকাঠামো পে-লোডারসহ বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ফুটপাতে অবৈধভাবে রাখা বিপুল পরিমাণ মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করে সংস্থাটি।
অভিযান পরিচালনায় ডিএসসিসির চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট—প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা হাছিবা খান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম নেতৃত্ব দেন। এ সময় সংস্থাতটির শতাধিক উচ্ছেদকর্মী এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় ছয় প্লাটুন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ