ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজস্ব সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা বারাণসীতে উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদ (এমএলসি) নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বারাণসী অঞ্চলের শিক্ষক আসনে বিজেপি প্রার্থীকে প্রায় ৫ হাজার ভোটে পরাজিত করে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির (সপা) প্রার্থী লালবিহারি যাদব। একই সঙ্গে এই এলাকার স্নাতক আসনেও সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী শক্ত অবস্থানে এগিয়ে রয়েছেন। ২০২৭ সালের গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর খাসতালুকে প্রধান বিরোধী দলের এই সাফল্য রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে বাড়তি রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের শিক্ষক ও স্নাতক প্রতিনিধির মোট ১১টি আসনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক কৌতূহল দেখা যায়। শিক্ষক ও গ্র্যাজুয়েট ভোটারদের জন্য নির্ধারিত এই আসনগুলোতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টির প্রার্থীদের মধ্যেই।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বারাণসী শিক্ষক আসনে সমাজবাদী পার্টির লালবিহারি যাদব ১০ হাজার ৯৫৮ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রমোদ মিশ্র পেয়েছেন ৬ হাজার ৬০ ভোট। ফলে প্রায় ৪ হাজার ৮৯৮ ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থীকে পরাজিত করে আসনটি ছিনিয়ে নেয় সপা।
যদিও রাজ্যের অন্যান্য বেশ কয়েকটি আসনে বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে লখনউয়ের শিক্ষক আসনে জয় পেয়েছেন বিজেপির উমেশ দ্বিবেদী। এ ছাড়া মেরঠের শিক্ষক ও স্নাতক উভয় আসন এবং বেরেলি-মোরাদাবাদের শিক্ষক আসনেও জয়ী হয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। সার্বিক আসনসংখ্যায় বিজেপি এগিয়ে থাকলেও খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতে দলের এই পরাজয় বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষক ও স্নাতক ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব সাধারণত সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটারের চেয়ে ভিন্ন হয়ে থাকে। ফলে এই নির্বাচনের ফল দিয়ে ২০২৭ সালের সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত গতিপথ সম্পূর্ণ নির্ধারণ করা না গেলেও, সচেতন ও শিক্ষিত ভোটারদের মাঝে এটি এক ধরনের স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে বারাণসীর মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে বিজেপির পরাজয় অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী পার্টির নেতাকর্মীদের মনোবল ব্যাপকভাবে চাঙ্গা করেছে।
মন্তব্যসমূহ