ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় সুগন্ধা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও প্রজনন রক্ষা অভিযানে গিয়ে সংঘবদ্ধ অসাধু জেলেদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও তাঁর দল। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে উপজেলার কুমারখালী এলাকায় অন্তত ১২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এসে রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত এই হামলা চালায় জেলেরা।
এ ঘটনায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সরকারি দলের মোট সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে একটি স্পিডবোট ও একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে সুগন্ধা নদীতে নিয়মিত টহল ও অভিযান শুরু হয়। ভোররাতের দিকে নলছিটি অংশের কুমারখালী সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ১২টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকায় অবস্থান নেওয়া জেলেরা তাঁদের চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলে গতিরোধ করে।
একপর্যায়ে জেলেরা হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আভিযানিক দলের ওপর চড়াও হয়। হামলার আকস্মিকতায় স্পিডবোটের নিয়ন্ত্রণ নড়বড়ে হয়ে গেলে জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার বিশ্বাস নদীতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। হামলায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক ছাড়াও আহত হন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিন আনসার সদস্য হাবিলদার আবদুর রহিম, সিপাহি সাকিব হাসান ও সিপাহি সেলিম মিয়া। এ ছাড়া অভিযান দলের ট্রলারমাঝি মো. রেজাউল করিম, স্পিডবোটচালক মো. মোস্তফা সিকদার এবং মৎস্য দপ্তরের অফিস সহায়ক মো. রমজান আলী খলিফা আহত হন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, ইলিশ রক্ষায় সরকারি দায়িত্ব পালনকালে সংঘবদ্ধ জেলেরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর আক্রমণ চালায়। হামলাকারীরা বিশেষ করে ট্রলারের চালক ও মাঝিকে লক্ষ্য করে নির্মমভাবে মারধর করে এবং রামদা উঁচিয়ে ভবিষ্যতে মৎস্য বিভাগের কোনো অভিযানে সহযোগিতা না করার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ট্রলারের মাঝিদের প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে জেলেরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে এবং সরকারি কাজে বাধা ও প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্যসমূহ