ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইসরাইলি নির্বাচনে যেকোনো সময় আসতে পারে ‘অপ্রত্যাশিত চমক’

ইসরাইলি নির্বাচনে যেকোনো সময় আসতে পারে ‘অপ্রত্যাশিত চমক’
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইসরায়েলের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম তিন ঘণ্টার মধ্যেই ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের রেকর্ড অনুযায়ী গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম দ্রুততম ও সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক উপস্থিতির নজির। তবে প্রাথমিক এই জোরালো পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে এখনই কোনো পক্ষ নিশ্চিত জয়ের উপসংহারে পৌঁছাতে পারবে না বলে সতর্ক করেছেন ফিলিস্তিনের বীরজাইত বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানী নিবেল খলিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, ইসরায়েলের জটিল অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণে এই নির্বাচনের ফলাফলে যেকোনো মুহূর্তে ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ বা নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

নিবেল খলিল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটার উপস্থিতির হার বেশি দেখানো হলেও নির্বাচনের দিন ইসরায়েলের ভেতরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পরিকল্পিত বাধার মুখে পড়তে হতে পারে, যার ফলে অনেকের ভোটাধিকার প্রয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবশালীদের অনুকূলে নিয়ে আসার জন্য কিংবা সূক্ষ্ম কারচুপির নানা তৎপরতা চলার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনের জটিলতা এবং ক্ষমতা ধরে রাখতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কৌশল প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন। ভোটে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু তাঁর ঘোর বিরোধী বা বিকল্প রাজনৈতিক দলের নেতা—যেমন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট কিংবা আরব দলীয় নেতা মনসুর আব্বাসের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে সমঝোতায় যাবেন কি না, এমন প্রশ্নে খলিল বলেন, ‘ইসরায়েলের ক্ষমতার রাজনীতিতে এখন সব সম্ভাবনাই উন্মুক্ত রয়েছে।’ তবে এমন স্বার্থভিত্তিক ও পরস্পরবিরোধী মেরুকরণের জোট গঠন দৃশ্যপটটিকে আরও উদ্বেগজনক ও ভীতিকর করে তুলতে পারে।

নির্বাচনে সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের ফলে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে—সে প্রসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দেন এই নৃবিজ্ঞানী। তিনি জানান, ইসরায়েলে ক্ষমতার পালাবদল হলেও ফিলিস্তিনিরা রাতারাতি কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়ে যাবে, এমন আকাশকুসুম প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের নেই। তবে চরমপন্থী সরকারের বদলে একটি তুলনামূলক বিকল্প প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অন্তত অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর বছরের পর বছর ধরে চাপিয়ে দেওয়া দমন-পীড়ন, সামরিক বিধিনিষেধ ও মানবিক দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ট্যাগ : নির্বাচন ইসরাইলি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


ইসরাইলি নির্বাচনে যেকোনো সময় আসতে পারে ‘অপ্রত্যাশিত চমক’

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম তিন ঘণ্টার মধ্যেই ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের রেকর্ড অনুযায়ী গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম দ্রুততম ও সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক উপস্থিতির নজির। তবে প্রাথমিক এই জোরালো পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে এখনই কোনো পক্ষ নিশ্চিত জয়ের উপসংহারে পৌঁছাতে পারবে না বলে সতর্ক করেছেন ফিলিস্তিনের বীরজাইত বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানী নিবেল খলিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, ইসরায়েলের জটিল অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণে এই নির্বাচনের ফলাফলে যেকোনো মুহূর্তে ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ বা নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

নিবেল খলিল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটার উপস্থিতির হার বেশি দেখানো হলেও নির্বাচনের দিন ইসরায়েলের ভেতরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পরিকল্পিত বাধার মুখে পড়তে হতে পারে, যার ফলে অনেকের ভোটাধিকার প্রয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবশালীদের অনুকূলে নিয়ে আসার জন্য কিংবা সূক্ষ্ম কারচুপির নানা তৎপরতা চলার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনের জটিলতা এবং ক্ষমতা ধরে রাখতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কৌশল প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন। ভোটে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু তাঁর ঘোর বিরোধী বা বিকল্প রাজনৈতিক দলের নেতা—যেমন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট কিংবা আরব দলীয় নেতা মনসুর আব্বাসের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে সমঝোতায় যাবেন কি না, এমন প্রশ্নে খলিল বলেন, ‘ইসরায়েলের ক্ষমতার রাজনীতিতে এখন সব সম্ভাবনাই উন্মুক্ত রয়েছে।’ তবে এমন স্বার্থভিত্তিক ও পরস্পরবিরোধী মেরুকরণের জোট গঠন দৃশ্যপটটিকে আরও উদ্বেগজনক ও ভীতিকর করে তুলতে পারে।

নির্বাচনে সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের ফলে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে—সে প্রসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দেন এই নৃবিজ্ঞানী। তিনি জানান, ইসরায়েলে ক্ষমতার পালাবদল হলেও ফিলিস্তিনিরা রাতারাতি কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়ে যাবে, এমন আকাশকুসুম প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের নেই। তবে চরমপন্থী সরকারের বদলে একটি তুলনামূলক বিকল্প প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অন্তত অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর বছরের পর বছর ধরে চাপিয়ে দেওয়া দমন-পীড়ন, সামরিক বিধিনিষেধ ও মানবিক দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ