ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে যুক্ত করা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত অঞ্চল ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা জোরদার করতে সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি মোতায়েন করেছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চীন সীমান্ত দ্বারা পরিবেষ্টিত মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই সংবেদনশীল করিডোরকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য বহিঃশত্রুর হুমকি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা রুখতে আকাশ ও স্থলভাগে বহুমুখী সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই করিডোরটি সুরক্ষিত রাখতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আসামের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিষানগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় তিনটি স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করতে মোতায়েন রাখা হয়েছে আধুনিক যুদ্ধবিমান।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে সাধারণ রাডারে নিচু দিয়ে উড়ে আসা বস্তু শনাক্ত করা কঠিন। তাই আকাশসীমার সর্বোচ্চ নজরদারি নিশ্চিত করতে ভারতীয় বিমানবাহিনী যুক্ত করেছে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ‘ইসরাইলি অ্যারোস্ট্যাট রাডার’। ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি এই ৩-ডি রাডারটি আকাশে ভাসমান বিশালাকার বেলুনের সাহায্যে অনেক উঁচুতে অবস্থান করে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার এলাকা নিখুঁতভাবে স্ক্যান করতে পারে। ফলে দুর্গম পাহাড়ের বাধা এড়িয়ে অত্যন্ত নিচু দিয়ে ধেয়ে আসা শত্রুপক্ষের ক্রুজ মিসাইল, স্টিলথ ড্রোন কিংবা যুদ্ধবিমান বহুদূর থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এই করিডোরের আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রাশিয়া থেকে সংগৃহীত অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবস্থা ‘এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম’।
স্থলভাগেও নেওয়া হয়েছে কড়া নজরদারি ব্যবস্থা। করিডোর সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বসানো হয়েছে নতুন ডিজাইনের আধুনিক কাঁটাতারের বেড়া। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নাইট-ভিশন ও তাপীয় নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) দাবি, এই নতুন প্রযুক্তিগত সংযোগের ফলে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অননুমোদিত গতিবিধি মুহূর্তের মধ্যেই তাদের নজরে চলে আসবে।
মন্তব্যসমূহ