পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জমিতে রাশিয়ার অর্থায়নে একটি বৃহৎ আধুনিক গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত এই সাইলোর ধারণক্ষমতা ২ লাখ মেট্রিক টন হলেও পর্যায়ক্রমে তা ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার খোজিন খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে দ্বিপাক্ষিক এ প্রস্তাব ও কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকারের কাছে ‘সরকার-টু-সরকার’ (জি টু জি) ভিত্তিতে সরাসরি গম রপ্তানির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করেন। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার অর্থায়নে কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এর জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির প্রস্তাবটি সরকার ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করে যথাসময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে মহেশখালীতে সাইলো নির্মাণের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, পর্যটন ও শিল্পঘেঁষা কক্সবাজার অঞ্চলে জমির অপ্রতুলতার কারণে এ ধরনের বিশালাকার কৌশলগত খাদ্য সংরক্ষণ অবকাঠামো তৈরির জমি পাওয়া কঠিন হতে পারে। এর বিকল্প হিসেবে তিনি পায়রা সমুদ্রবন্দরে বিদ্যমান পর্যাপ্ত অব্যবহৃত জায়গা ও বন্দর অবকাঠামো ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, পায়রা বন্দরে গভীর চ্যানেল এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ ও সড়কপথের সরাসরি সংযোগ সুবিধা বিদ্যমান থাকায় সেখানে বৃহৎ সাইলো নির্মাণের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে সাইলো নির্মিত হলে রাশিয়া থেকে আমদানি করা গম দ্রুত খালাস করে সরাসরি সংরক্ষণ করা যাবে। পরবর্তীতে তা দেশের বেসরকারি গম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি সরকারের আপৎকালীন খাদ্য মজুদের প্রয়োজনেও সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা তীর কিংবা সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীসহ দেশের প্রধান প্রধান গম বিপণন ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে সহজে গম পরিবহন নিশ্চিত করা যাবে।
প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা সরেজমিনে যাচাইয়ের জন্য খাদ্যমন্ত্রী রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে দ্রুত পায়রা সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার খোজিন খাদ্যমন্ত্রীর এ বিকল্প প্রস্তাবকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানান এবং পায়রা বন্দর পরিদর্শনে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার উল্লেখ করে অর্থনৈতিক ও খাদ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে মস্কোর দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
বৈঠকে রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি আনাস্তাসিয়া নেমোভা, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ