ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য: মাহদী আমিন

চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য: মাহদী আমিন
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের আর্থিক সচ্ছলতা ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে বাস্তবমুখী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ শর্তে উদ্যোক্তা ঋণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নারীদের সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল সামিট অন ইয়াং উইমেন’স এমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব কথা জানান।

মাহদী আমিন বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দেশজুড়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই অর্থবছরেই ৪১ লাখ নারীর হাতে এই সুবিধা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত হবে।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে টেকসই করতে জনমিতিক সুবিধার (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি নারীকে রাষ্ট্র পরিচালনা ও অর্থনীতির মূল স্রোতে সম্পৃক্ত না করলে প্রকৃত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়। ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে পৃথক মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং পোশাক শিল্পের সূচনা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। পরবর্তীতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ করে দেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই পথ অনুসরণ করে বর্তমান সরকার দ্বাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের আধুনিকায়নে উপদেষ্টা বলেন, মুখস্থ করে সনদ অর্জনের চেয়ে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নিজেকে দক্ষ করে তোলা অনেক বেশি জরুরি। সবার প্রচলিত ধারায় চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হওয়ার প্রয়োজন নেই। যারা দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করতে চান, তাদের জন্য ৩, ৬ ও ৯ মাস বা এক বছর মেয়াদি আধুনিক কারিগরি কোর্স চালু করা হচ্ছে। প্রবাসে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, আরবি, ফরাসি, ইতালীয় ও কোরীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নারীদের বর্তমান মাত্র ৫ শতাংশ উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ফিলিপাইনের সফল মডেল অনুসরণ করে নার্সিং, কেয়ারগিভিং ও বিশেষায়িত খাতে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া নারীদের নিজস্ব উদ্যোগ বাড়াতে জামানতবিহীন স্বল্প সুদের ঋণ, উদ্ভাবনী আইডিয়ার জন্য সিড ফান্ডিং এবং সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, উপস্থিতি বাড়াতে মিড ডে মিল, পোশাক ও জুতা বিতরণ এবং ছাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টুর্নামেন্টে ১১ লাখ ছাত্রের পাশাপাশি সমানসংখ্যক ১১ লাখ ছাত্রী অংশগ্রহণ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সম্মেলনে ইউনিসেফের শিক্ষা বিভাগের প্রধান মিস দীপা শংকর, ‘আর্ন’ প্রকল্পের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : ফ্যামিলি কার্ড মাহদী আমিন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য: মাহদী আমিন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের আর্থিক সচ্ছলতা ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে বাস্তবমুখী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ শর্তে উদ্যোক্তা ঋণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নারীদের সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল সামিট অন ইয়াং উইমেন’স এমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব কথা জানান।

মাহদী আমিন বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দেশজুড়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই অর্থবছরেই ৪১ লাখ নারীর হাতে এই সুবিধা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত হবে।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে টেকসই করতে জনমিতিক সুবিধার (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি নারীকে রাষ্ট্র পরিচালনা ও অর্থনীতির মূল স্রোতে সম্পৃক্ত না করলে প্রকৃত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়। ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে পৃথক মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং পোশাক শিল্পের সূচনা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। পরবর্তীতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ করে দেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই পথ অনুসরণ করে বর্তমান সরকার দ্বাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের আধুনিকায়নে উপদেষ্টা বলেন, মুখস্থ করে সনদ অর্জনের চেয়ে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নিজেকে দক্ষ করে তোলা অনেক বেশি জরুরি। সবার প্রচলিত ধারায় চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হওয়ার প্রয়োজন নেই। যারা দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করতে চান, তাদের জন্য ৩, ৬ ও ৯ মাস বা এক বছর মেয়াদি আধুনিক কারিগরি কোর্স চালু করা হচ্ছে। প্রবাসে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, আরবি, ফরাসি, ইতালীয় ও কোরীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নারীদের বর্তমান মাত্র ৫ শতাংশ উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ফিলিপাইনের সফল মডেল অনুসরণ করে নার্সিং, কেয়ারগিভিং ও বিশেষায়িত খাতে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া নারীদের নিজস্ব উদ্যোগ বাড়াতে জামানতবিহীন স্বল্প সুদের ঋণ, উদ্ভাবনী আইডিয়ার জন্য সিড ফান্ডিং এবং সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, উপস্থিতি বাড়াতে মিড ডে মিল, পোশাক ও জুতা বিতরণ এবং ছাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টুর্নামেন্টে ১১ লাখ ছাত্রের পাশাপাশি সমানসংখ্যক ১১ লাখ ছাত্রী অংশগ্রহণ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সম্মেলনে ইউনিসেফের শিক্ষা বিভাগের প্রধান মিস দীপা শংকর, ‘আর্ন’ প্রকল্পের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ