ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দেশে ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিতে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশে ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিতে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বাংলাদেশে দৃশ্যমান গলগণ্ড রোগ অনেকাংশে নির্মূল করা সম্ভব হলেও দেশের এখনো প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের মারাত্মক ঘাটতিতে ভুগছে, যা জাতীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একটি সুস্থ, সবল ও বুদ্ধিদীপ্ত জাতি বিনির্মাণের স্বার্থে অবিলম্বে দেশে মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের শতভাগ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ব আয়োডিন দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ বিসিক ভবনে আয়োজিত ‘বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনে আয়োডিনের গুরুত্ব’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানবদেহে আয়োডিনের অভাবজনিত জটিলতা নিরসনে রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের লবণ উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণে গুণগত মান বজায় রাখা এবং বিদ্যমান সংশ্লিষ্ট আইনের কঠোর বাস্তবায়নে বিসিকের কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় ও লবণ মিল মালিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ জানান, দেশের লবণ পরিশোধন শিল্পকে আধুনিকায়ন ও দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। বিসিক দেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের সরবরাহ অক্ষুণ্ন রাখতে মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি পরিচালনা করছে।

আলোচনা সভায় মূল তথ্য উপস্থাপন করে বক্তারা বলেন, নব্বইয়ের দশকের পূর্বে বাংলাদেশে আয়োডিন ঘাটতিজনিত সমস্যা প্রকট থাকলেও সরকারের সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন কর্মসূচির ফলে বর্তমানে ৮৮ শতাংশ পরিবার এই লবণের আওতায় এসেছে। কোনো দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করলে সে দেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণতার স্বীকৃতি পায়। বাংলাদেশ বর্তমানে সেই মাইলফলক অর্জনের মাত্র ২ শতাংশ দূরে অবস্থান করছে। তবে এখনো যে ১২ শতাংশ মানুষ এই সুরক্ষার বাইরে রয়েছে, তাদের মধ্যে গলগণ্ড, শারীরিক বামনত্ব, অকাল গর্ভপাত এবং মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো গভীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বিদ্যমান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা, বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ।

ট্যাগ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


দেশে ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিতে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে দৃশ্যমান গলগণ্ড রোগ অনেকাংশে নির্মূল করা সম্ভব হলেও দেশের এখনো প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের মারাত্মক ঘাটতিতে ভুগছে, যা জাতীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একটি সুস্থ, সবল ও বুদ্ধিদীপ্ত জাতি বিনির্মাণের স্বার্থে অবিলম্বে দেশে মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের শতভাগ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ব আয়োডিন দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ বিসিক ভবনে আয়োজিত ‘বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনে আয়োডিনের গুরুত্ব’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানবদেহে আয়োডিনের অভাবজনিত জটিলতা নিরসনে রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের লবণ উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণে গুণগত মান বজায় রাখা এবং বিদ্যমান সংশ্লিষ্ট আইনের কঠোর বাস্তবায়নে বিসিকের কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় ও লবণ মিল মালিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ জানান, দেশের লবণ পরিশোধন শিল্পকে আধুনিকায়ন ও দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। বিসিক দেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের সরবরাহ অক্ষুণ্ন রাখতে মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি পরিচালনা করছে।

আলোচনা সভায় মূল তথ্য উপস্থাপন করে বক্তারা বলেন, নব্বইয়ের দশকের পূর্বে বাংলাদেশে আয়োডিন ঘাটতিজনিত সমস্যা প্রকট থাকলেও সরকারের সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন কর্মসূচির ফলে বর্তমানে ৮৮ শতাংশ পরিবার এই লবণের আওতায় এসেছে। কোনো দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করলে সে দেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণতার স্বীকৃতি পায়। বাংলাদেশ বর্তমানে সেই মাইলফলক অর্জনের মাত্র ২ শতাংশ দূরে অবস্থান করছে। তবে এখনো যে ১২ শতাংশ মানুষ এই সুরক্ষার বাইরে রয়েছে, তাদের মধ্যে গলগণ্ড, শারীরিক বামনত্ব, অকাল গর্ভপাত এবং মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো গভীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বিদ্যমান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা, বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ