ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:

বাংলাদেশের নতুন সরকারকে যে প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলা ভিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 11

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব উপস্থাপনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের কৌশলগত আগ্রহ নতুন করে জোরদার হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen

বার্তাসংস্থা Reuters-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও মিত্র দেশগুলোর ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে প্রস্তুত। এগুলো চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

চীন প্রসঙ্গ ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আঞ্চলিক কূটনীতিতে পরিবর্তন আসে। ভারতের প্রভাব তুলনামূলক কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে চীনের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণে বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা চুক্তি পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি চীন-পাকিস্তান যৌথ প্রকল্পের JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলো বাংলাদেশ সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ওয়াশিংটন কাজ করছে।

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এবং তা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও মার্কিন অবস্থান

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রত্যাশা করে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অবনতির প্রভাব ভিসা সেবা ও ক্রীড়া সহযোগিতায়ও পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

ক্রিস্টেনসেন জানান, বহু মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে তারা চায় নতুন সরকার শুরুতেই স্পষ্ট বার্তা দিক যে দেশটি ব্যবসাবান্ধব।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।

মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি Chevron দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অন্যান্য মার্কিন ব্র্যান্ড যেমন Starbucks বা McDonald’s-এর উপস্থিতি নেই। উচ্চ করহার ও মুনাফা দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতা বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

রোহিঙ্গা সংকট

বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সর্ববৃহৎ দাতা দেশ। সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল কাঠামোতে স্বাক্ষরের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দায় এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র বহন করতে পারবে না; আরও সহায়তা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের ভাষায়, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারই নির্বাচিত করুক, যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের নতুন সরকারকে যে প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব উপস্থাপনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের কৌশলগত আগ্রহ নতুন করে জোরদার হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen

বার্তাসংস্থা Reuters-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও মিত্র দেশগুলোর ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে প্রস্তুত। এগুলো চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

চীন প্রসঙ্গ ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আঞ্চলিক কূটনীতিতে পরিবর্তন আসে। ভারতের প্রভাব তুলনামূলক কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে চীনের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণে বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা চুক্তি পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি চীন-পাকিস্তান যৌথ প্রকল্পের JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলো বাংলাদেশ সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ওয়াশিংটন কাজ করছে।

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এবং তা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও মার্কিন অবস্থান

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রত্যাশা করে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অবনতির প্রভাব ভিসা সেবা ও ক্রীড়া সহযোগিতায়ও পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

ক্রিস্টেনসেন জানান, বহু মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে তারা চায় নতুন সরকার শুরুতেই স্পষ্ট বার্তা দিক যে দেশটি ব্যবসাবান্ধব।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।

মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি Chevron দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অন্যান্য মার্কিন ব্র্যান্ড যেমন Starbucks বা McDonald’s-এর উপস্থিতি নেই। উচ্চ করহার ও মুনাফা দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতা বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

রোহিঙ্গা সংকট

বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সর্ববৃহৎ দাতা দেশ। সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল কাঠামোতে স্বাক্ষরের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দায় এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র বহন করতে পারবে না; আরও সহায়তা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের ভাষায়, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারই নির্বাচিত করুক, যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে।